তরুণ ও নারী ভোটারই বদলে দিতে পারে ভোটের হিসাব

প্রকাশিত: ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ০৩:৪১ (সোমবার)
তরুণ ও নারী ভোটারই বদলে দিতে পারে ভোটের হিসাব

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সময় যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। শেষ মুহূর্তে কে সরকার গঠন করবে, কোন দল কত আসন পাবে—এ নিয়ে নানা হিসাব চলছে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের আলোচনায়। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনের ভাগ্য নির্ধারণে সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারেন তরুণ ও নারী ভোটাররা।

নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট ভোটারের সংখ্যা প্রায় ১২ কোটি ৭৭ লাখ। এর মধ্যে তরুণ ভোটার প্রায় সাড়ে ৪ কোটি এবং নারী ভোটার ৬ কোটিরও বেশি। অর্থাৎ মোট ভোটারের বড় একটি অংশই তরুণ ও নারী। এই বিশাল ভোটব্যাংকের রায় যে কোনো নির্বাচনী অঙ্ক এক মুহূর্তে পাল্টে দিতে পারে। ফলে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নির্বাচনী কৌশলে এই দুটি গোষ্ঠীকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এবারের নির্বাচনে তরুণ ও নারী ভোটাররা কার্যত ‘কিংমেকার’ হিসেবে আবির্ভূত হতে পারেন। অতীতের তুলনায় এবার তরুণদের ভোট দেওয়ার আগ্রহ বেশি, বিশেষ করে দীর্ঘ সময় ধরে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত থাকার অভিজ্ঞতার কারণে। একই সঙ্গে নারীদের ভোটকেন্দ্রমুখী অংশগ্রহণ বাংলাদেশে বরাবরই উল্লেখযোগ্য, যা এবারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তরুণ ভোটাররা এখন আর শুধু স্লোগান বা আবেগে সিদ্ধান্ত নেন না। কর্মসংস্থান, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, নিরাপত্তা, শিক্ষা সংস্কার, প্রযুক্তি ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা—এই বিষয়গুলোই তাদের কাছে মুখ্য। একইভাবে নারী ভোটারদের জন্য নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও সামাজিক মর্যাদা বড় বিবেচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।

ইসি তথ্য অনুযায়ী, ১৮ থেকে ৩৩ বছর বয়সী ভোটারের সংখ্যা ৪ কোটি ৩৩ লাখের বেশি। এর মধ্যে প্রায় ১ কোটি ভোটার এবারই প্রথম ভোট দেবেন। এই নতুন ভোটারদের বড় অংশই ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। ফলে তারা এবারের নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন।

নারী ভোটারদের ক্ষেত্রেও চিত্র প্রায় একই। দেশে মোট নারী ভোটারের সংখ্যা ৬ কোটির বেশি। ১৮ থেকে ৩৭ বছর বয়সী নারী ভোটার প্রায় ২ কোটি ৬৭ লাখ। অতীতে দেখা গেছে, ভোটের দিন সকাল থেকেই নারীরা ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে এবারও তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নির্বাচনের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

এই বাস্তবতা মাথায় রেখে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের ইশতেহারে তরুণ ও নারীদের জন্য আলাদা করে নানা প্রতিশ্রুতি রেখেছে। কর্মসংস্থান, বেকার ভাতা, প্রযুক্তিভিত্তিক প্রশিক্ষণ, ফ্রিল্যান্সিং, শিক্ষা সংস্কার, নারী উদ্যোক্তা সহায়তা, সামাজিক নিরাপত্তা ও পরিবারভিত্তিক সহায়তা কর্মসূচি—এসব বিষয় ইশতেহারে জায়গা পেয়েছে মূলত এই ভোটারদের লক্ষ্য করেই।

তরুণ ভোটারদের মতে, পুরোনো ধাঁচের রাজনীতি দিয়ে আর তাদের আকৃষ্ট করা যাবে না। যে দল তাদের ভাষা বুঝতে পারবে, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্বাসযোগ্য আশ্বাস দিতে পারবে, তার দিকেই তারা ঝুঁকবেন। একইভাবে নারীরাও যাদের কাছে নিজেদের নিরাপদ ও সম্মানিত মনে করবেন, তাদেরই ভোট দিতে আগ্রহী হবেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণরাই এবার ভোটের মাঠেও বড় ভূমিকা রাখবেন। সংস্কার, ভোটাধিকার ও জবাবদিহির দাবিতে যারা সামনে ছিলেন, তারাই এখন ব্যালটের মাধ্যমে নিজেদের প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখতে চান।

সব মিলিয়ে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের চাবিকাঠি যে তরুণ ও নারী ভোটারদের হাতেই রয়েছে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে খুব একটা দ্বিমত নেই। তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণই নির্ধারণ করবে আগামী দিনের রাজনৈতিক সমীকরণ।

সম্পাদক ও প্রকাশক: গোলাম রসুল খান

মোবাইল: +44 7440589342

তথ্য ও প্রযুক্তি সহযোগী - আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.