থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে সহায়ক খাবার যেগুলো

প্রকাশিত: ০৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ০৪:৫৯ (বুধবার)
থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে সহায়ক খাবার যেগুলো

থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে ক্লান্তি, ওজনের অস্বাভাবিক পরিবর্তন, মনোযোগের ঘাটতি কিংবা শরীরজুড়ে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। এসব ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ও নিয়মিত ওষুধ গ্রহণ সবচেয়ে জরুরি। তবে সাম্প্রতিক পুষ্টিবিষয়ক গবেষণা বলছে, সঠিক খাবার বেছে নিলে থাইরয়েডের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা পাওয়া যায়। নাটকীয় কোনো পরিবর্তন নয়, বরং নিয়মিত ও পরিমিতভাবে কিছু খাবার খাদ্যতালিকায় রাখলে ধীরে ধীরে ইতিবাচক প্রভাব দেখা যেতে পারে।

নিচে থাইরয়েডের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক কয়েকটি খাবার তুলে ধরা হলো।

সেলেনিয়ামসমৃদ্ধ খাবার
সেলেনিয়াম থাইরয়েড হরমোনের সক্রিয়তা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ একটি খনিজ উপাদান। এটি T4 হরমোনকে কার্যকর T3 হরমোনে রূপান্তরে সহায়তা করে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, সেলেনিয়ামের ঘাটতি থাকলে থাইরয়েডের কার্যকারিতা ব্যাহত হতে পারে। প্রতিদিন এক থেকে দুটি ভেজানো ব্রাজিল নাট, ডিম, সূর্যমুখীর বীজ কিংবা সামুদ্রিক মাছ সেলেনিয়ামের ভালো উৎস হিসেবে বিবেচিত।

আয়োডিনযুক্ত খাবার
থাইরয়েড হরমোন তৈরির জন্য আয়োডিন অপরিহার্য। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এখনো বিশ্বের একটি বড় জনগোষ্ঠী আয়োডিনের ঘাটতির ঝুঁকিতে রয়েছে। আয়োডিনযুক্ত লবণ, সামুদ্রিক মাছ, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার থেকে নিরাপদ মাত্রায় আয়োডিন পাওয়া যায়। তবে অতিরিক্ত আয়োডিন গ্রহণও ক্ষতিকর হতে পারে, তাই পরিমিত গ্রহণই সবচেয়ে নিরাপদ।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ ফল ও সবজি
অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থাইরয়েড গ্রন্থির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার এই ক্ষতি কমাতে সাহায্য করে। ব্লুবেরি, স্ট্রবেরি, চেরি, আঙুর, পালং শাক ও রঙিন শাকসবজি নিয়মিত খেলে শরীরের কোষ সুরক্ষিত থাকে এবং থাইরয়েডের ওপর চাপ কমে।

জিঙ্কসমৃদ্ধ খাবার
জিঙ্ক থাইরয়েড হরমোন নিঃসরণ ও কার্যকারিতার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। জিঙ্কের ঘাটতি থাকলে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। কুমড়ার বীজ, কাজুবাদাম, ডাল, মুরগির মাংস ও পূর্ণ শস্য জিঙ্কের ভালো উৎস। প্রতিদিন অল্প পরিমাণ কুমড়ার বীজ খাদ্যতালিকায় রাখলে উপকার পাওয়া যেতে পারে।

ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড
ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড প্রদাহ কমাতে এবং হরমোনের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক ভূমিকা রাখে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, থাইরয়েড সমস্যায় প্রদাহ একটি বড় ভূমিকা রাখতে পারে। তিসির বীজ, চিয়া বীজ, আখরোট ও সামুদ্রিক মাছ থেকে প্রাকৃতিকভাবে ওমেগা থ্রি পাওয়া যায়। প্রতিদিন এক চা চামচ ভেজানো তিসির বীজ বা তিসির তেল গ্রহণ করা যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, থাইরয়েডের ক্ষেত্রে খাদ্য কখনোই চিকিৎসার বিকল্প নয়। তবে সুষম ও পুষ্টিকর খাবার নিয়মিত গ্রহণ করলে চিকিৎসার কার্যকারিতা বাড়ে এবং দৈনন্দিন জীবন অনেকটাই স্বস্তিদায়ক হয়ে ওঠে।

বায়ান্ননিউজ২৪/চৈতী

সম্পাদক ও প্রকাশক: গোলাম রসুল খান

মোবাইল: +44 7440589342

তথ্য ও প্রযুক্তি সহযোগী - আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.