বুকে ব্যথা হলে যেসব কাজ একেবারেই করবেন না
বুকে হঠাৎ ব্যথা শুরু হলেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেক সময় সেই আতঙ্কের মধ্যেই আমরা কিছু ভুল সিদ্ধান্ত নিই, যা পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে। চিকিৎসকদের মতে, বুকের ব্যথাকে অবহেলা করা যেমন বিপজ্জনক, তেমনি ভুল চিকিৎসা বা ভুল পরীক্ষাও বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই বুকে ব্যথা হলে কী করা যাবে না, তা জানা অত্যন্ত জরুরি।
বুকে ব্যথাকে গ্যাস ভেবে বসে থাকা
অনেকেই বুকের ব্যথাকে গ্যাস, অ্যাসিডিটি বা বদহজম ভেবে সময় নষ্ট করেন। অথচ বুকের মাঝখানে চাপ, ভারী ভাব বা জ্বালাপোড়া হার্ট অ্যাটাকের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। ১৫ থেকে ২০ মিনিটের বেশি ব্যথা স্থায়ী হলে বা বারবার ফিরে এলে একে কখনোই হালকা করে দেখা উচিত নয়।
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ খাওয়া
নিজে নিজে ব্যথানাশক, গ্যাসের ওষুধ বা পরিচিত কারও দেওয়া ট্যাবলেট খাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। কিছু ওষুধ হার্টের সমস্যার লক্ষণ আড়াল করে দেয়, আবার কিছু ওষুধ হার্টের জন্য ক্ষতিকরও হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ খাওয়া ঠিক নয়।
শুধু ইকো করিয়ে নিশ্চিন্ত হওয়া
অনেকে বুকে ব্যথা হলে সরাসরি ইকোকার্ডিওগ্রাফি করান। ইকো হার্টের গঠন ও কার্যকারিতা বোঝাতে সাহায্য করলেও হার্ট অ্যাটাকের তাৎক্ষণিক ঝুঁকি নির্ণয়ে এটি যথেষ্ট নয়। বুকে ব্যথা হলে আগে ইসিজি এবং প্রয়োজনে ট্রোপোনিন টেস্ট ও ট্রেডমিল টেস্ট করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
অ্যাসপিরিন নিজে নিজে খাওয়া
ধারণা আছে, বুকে ব্যথা হলে অ্যাসপিরিন খেলেই উপকার হয়। কিন্তু এটি সবার জন্য নিরাপদ নয়। যাদের পাকস্থলীতে আলসার আছে, রক্তক্ষরণের ঝুঁকি রয়েছে বা অন্য কিছু রোগ আছে, তাদের ক্ষেত্রে অ্যাসপিরিন বিপজ্জনক হতে পারে। তাই চিকিৎসকের নির্দেশ ছাড়া অ্যাসপিরিন খাওয়া উচিত নয়।
ব্যথা কমলেই বিপদ কেটে গেছে ভাবা
কিছু ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকের ব্যথা সাময়িকভাবে কমে যেতে পারে। এতে অনেকে ধরে নেন সমস্যা শেষ। চিকিৎসকদের মতে, এটি মারাত্মক ভুল ধারণা। ব্যথা কমলেও পরীক্ষা ও চিকিৎসা প্রয়োজন।
একাই গাড়ি চালিয়ে হাসপাতালে যাওয়া
বুকে ব্যথার সময় একা গাড়ি চালানো বিপজ্জনক। হঠাৎ অবস্থা খারাপ হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। সম্ভব হলে অ্যাম্বুলেন্স ডাকা বা অন্য কাউকে সঙ্গে নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।
কখন জরুরি চিকিৎসা নেবেন
বুকের মাঝখানে চাপ বা ভারী ব্যথা, বাম হাত ঘাড় চোয়াল বা পিঠে ব্যথা ছড়িয়ে পড়া, শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত ঘাম, বমি ভাব, মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান লাগলে দ্রুত জরুরি বিভাগে যেতে হবে। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা ধূমপানকারীদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি।
আপডেটেড চিকিৎসা তথ্য
সাম্প্রতিক চিকিৎসা নির্দেশনা অনুযায়ী বুকে ব্যথা হলে প্রাথমিকভাবে ইসিজি ও ট্রোপোনিন টেস্ট করা এখন মানদণ্ড হিসেবে ধরা হয়। প্রয়োজনে করোনারি সিটি অ্যাঞ্জিওগ্রাফি দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা পেলে হার্ট অ্যাটাকজনিত মৃত্যুঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
শেষ কথা
বুকে ব্যথা মানেই সব সময় হার্ট অ্যাটাক নয়, আবার হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণও সব সময় এক রকম হয় না। তাই আন্দাজে সিদ্ধান্ত নয়, দ্রুত সঠিক পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শই হতে পারে জীবন রক্ষার সবচেয়ে বড় উপায়।
বায়ান্ননিউজ২৪/মৌটুসী
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.