প্রধানমন্ত্রিত্বের দৌড়ে এগিয়ে তারেক রহমান: দ্য ইকোনমিস্ট

প্রকাশিত: ০৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ০২:৩০ (মঙ্গলবার)
প্রধানমন্ত্রিত্বের দৌড়ে এগিয়ে তারেক রহমান: দ্য ইকোনমিস্ট

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সবচেয়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন বলে মন্তব্য করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রভাবশালী সাপ্তাহিক সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট।

২ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত সর্বশেষ সংখ্যার এক বিশ্লেষণে সাময়িকীটি জানায়, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের পর সরকার গঠনের ক্ষেত্রে তারেক রহমানই বর্তমানে এগিয়ে রয়েছেন। প্রতিবেদনে তাকে একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরসূরি হিসেবে উল্লেখ করা হয় এবং বলা হয়, দীর্ঘ সময় পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে।

ইকোনমিস্টের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ১৮ মাস আগে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের টানা ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। ওই সময়কে সাময়িকীটি দমন-পীড়ন ও দুর্নীতিতে জর্জরিত সময়কাল হিসেবে বর্ণনা করেছে। তাদের মতে, এবারের নির্বাচন গণতান্ত্রিক ধারায় প্রত্যাবর্তনের সুযোগ তৈরি করছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের টানাপোড়েনপূর্ণ সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ইকোনমিস্ট উল্লেখ করেছে, ২০০৮ সালের পর বাংলাদেশে কার্যত প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন হয়নি। প্রায় ১২ কোটি ৮০ লাখ ভোটারের মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি অংশ কখনোই প্রকৃত অর্থে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পায়নি। এই প্রেক্ষাপটে এবারের নির্বাচনকে অনেকেই দীর্ঘদিন পর ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার সুযোগ হিসেবে দেখছেন।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও বিআইপিএসএসের গবেষণা পরিচালক শাফকাত মুনির-এর উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘ সময় ধরে ভোটের প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন ছিল। তবে বর্তমানে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় আবারও নির্বাচনী প্রচারের চিত্র দেখা যাচ্ছে, যা রাজনৈতিক পরিবেশে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সাময়িকীটি আরও জানায়, নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য এই নির্বাচন তত্ত্বাবধানই হবে শেষ বড় দায়িত্ব। অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখার ক্ষেত্রে সরকারটি কিছুটা সফল হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

সংস্কার প্রসঙ্গে ইকোনমিস্ট জানায়, ভবিষ্যতে স্বৈরতন্ত্রে ফিরে যাওয়ার ঝুঁকি কমাতে অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে কিছু প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে উচ্চকক্ষ গঠন এবং প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছরে সীমিত করার বিষয়টি উল্লেখযোগ্য।

জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়, দলটি সংযত শাসনের প্রতিশ্রুতি দিলেও শহুরে মধ্যবিত্ত শ্রেণির মধ্যে তাদের উত্থান উদ্বেগ তৈরি করছে। এবারের নির্বাচনে দলটির কোনো নারী প্রার্থী না থাকা এবং সংসদীয় অভিজ্ঞতার সীমাবদ্ধতাকে তারেক রহমানের জন্য রাজনৈতিক সুবিধা হিসেবে দেখছে দ্য ইকোনমিস্ট।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তারেক রহমান এখনো বিস্তারিত নীতিগত রোডম্যাপ উপস্থাপন না করলেও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং তরুণদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বৈশ্বিক শ্রমবাজারে সুযোগ তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি পরিবেশ রক্ষায় বড় পরিসরে খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির কথাও উল্লেখ করেছেন।

দ্য ইকোনমিস্টের মতে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান—এই তিনটি বিষয়কে তারেক রহমান সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। সাময়িকীটি লিখেছে, প্রতিশোধের রাজনীতির পরিবর্তে তিনি রাজনৈতিক সহাবস্থানের ওপর জোর দিচ্ছেন, যা বর্তমান প্রেক্ষাপটে অনেক ভোটারের কাছে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।

বায়ান্ননিউজ২৪/নিউজরুম এডিটর

সম্পাদক ও প্রকাশক: গোলাম রসুল খান

মোবাইল: +44 7440589342

তথ্য ও প্রযুক্তি সহযোগী - আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.