প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে বিতর্কে ‘চলমান প্রক্রিয়া’র কথা বললেন নিরাপত্তা উপদেষ্টা

প্রকাশিত: ০৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ০০:০৫ (মঙ্গলবার)
প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে বিতর্কে ‘চলমান প্রক্রিয়া’র কথা বললেন নিরাপত্তা উপদেষ্টা

অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের শেষ পর্যায়ে এসে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয় ও সামরিক সহযোগিতা চুক্তি নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনার মধ্যে বিষয়গুলোকে চলমান প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান।

সোমবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। এর আগে তিনি পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন–এর সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও জাপানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তিসহ একাধিক সামরিক উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে ড. খলিলুর রহমান বলেন, এগুলো কোনো নতুন সিদ্ধান্ত নয়, বরং দীর্ঘদিনের চলমান প্রক্রিয়ার অংশ।

পরবর্তী সরকার এসব চুক্তি এগিয়ে না নিলে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিশ্রুতির ভবিষ্যৎ কী হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি অনুমাননির্ভর বিষয় এবং সে বিষয়ে মন্তব্য করা সমীচীন নয়।

সম্প্রতি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস–এর পরিচালনা পর্ষদে যুক্ত করা নিয়েও সমালোচনা দেখা দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বিশ্বের সব দেশে রাষ্ট্রীয় উড়োজাহাজ সংস্থা নেই, ফলে বিষয়টি তুলনামূলকভাবে দেখার সুযোগ রয়েছে।

২০২৪ সালের ৮ আগস্ট ছাত্র–জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস–এর নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়। সরকারের ঘোষিত অগ্রাধিকার ছিল রাষ্ট্রীয় কাঠামো সংস্কার, জুলাইয়ের সহিংসতার বিচার এবং একটি জাতীয় নির্বাচন আয়োজন। তবে এসব অগ্রাধিকারের বাইরে গিয়ে সামরিক খাতে বড় পরিসরে উদ্যোগ নেওয়া নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহে উল্লেখযোগ্য তৎপরতা দেখিয়েছে। এর মধ্যে ইউরোপীয় কনসোর্টিয়াম থেকে ইউরোফাইটার টাইফুন যুদ্ধবিমান কেনার প্রক্রিয়া অনেক দূর এগিয়েছে। এ লক্ষ্যে গত ৯ ডিসেম্বর ইতালির কোম্পানি লিওনার্দো এসপিএর সঙ্গে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি আগ্রহপত্র সই হয়। এই কনসোর্টিয়ামে লিওনার্দো ছাড়াও বিএই সিস্টেমস ও এয়ারবাস ডিফেন্স অ্যান্ড স্পেস যুক্ত রয়েছে।

এ ছাড়া চীনের সঙ্গে সরকারি পর্যায়ে ড্রোন নির্মাণে চুক্তি হয়েছে। মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে ওই কারখানা স্থাপনের জন্য জমি বরাদ্দের কথাও জানিয়েছে সরকার। পাকিস্তান থেকে জেএফ–১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান, চীন থেকে জে–১০ সিই যুদ্ধবিমান, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে সাবমেরিন, তুরস্ক থেকে টি–১২৯ অ্যাটাক হেলিকপ্টার এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে ব্ল্যাক হক মাল্টিরোল হেলিকপ্টার কেনার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়াও প্রায় ৬৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে যুদ্ধজাহাজ বানৌজা খালিদ বিন ওয়ালিদের সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জাপানের সঙ্গে একটি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি সইয়ের চেষ্টাও চলছে বলে জানা গেছে।

সব মিলিয়ে, সরকারের মেয়াদের শেষ সময়ে এসে এতগুলো প্রতিরক্ষা উদ্যোগ গ্রহণকে ঘিরে প্রশ্ন বাড়লেও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার ভাষ্য—এগুলো নতুন কিছু নয়, বরং দীর্ঘদিনের প্রক্রিয়ারই ধারাবাহিকতা।

বায়ান্ননিউজ২৪/সৈকত

সম্পাদক ও প্রকাশক: গোলাম রসুল খান

মোবাইল: +44 7440589342

তথ্য ও প্রযুক্তি সহযোগী - আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.