অস্বাভাবিক ভোটার মাইগ্রেশন নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে সিইসির কাছে তথ্য চাইল বিএনপি
ঢাকা মহানগরীসহ দেশের বিভিন্ন নির্বাচনি আসনে অস্বাভাবিক ভোটার মাইগ্রেশন এবং ধর্মীয় আবেগ ব্যবহার করে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে বিএনপি।
রোববার ১ ফেব্রুয়ারি দুপুরে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান নজরুল ইসলাম খান।
তিনি বলেন, গত এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে কিছু এলাকায় অস্বাভাবিক হারে নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোনো আসনেই দুই থেকে তিন হাজারের বেশি ভোটার মাইগ্রেশন হয়নি। তবে এই ব্যাখ্যায় বিএনপি সন্তুষ্ট নয়। তাদের কাছে এমন অভিযোগ রয়েছে, যেখানে একটি হোল্ডিং নম্বরে পাঁচজন থাকার কথা, সেখানে ২০ থেকে ৩০ জন ভোটার তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ও আসনভিত্তিক তথ্য প্রকাশের দাবি জানান তিনি।
আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রসঙ্গে নজরুল ইসলাম খান বলেন, কিছু এলাকায় ধর্মীয় বিশ্বাস ও আবেগকে ব্যবহার করে ভোট প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কোথাও প্রচার করা হচ্ছে, কবরের ফেরেশতারা নাকি তিনটির বদলে চারটি প্রশ্ন করবেন এবং চতুর্থ প্রশ্ন হবে নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দেওয়া হয়েছে কিনা। এ ধরনের বক্তব্যকে তিনি হাস্যকর ও দুর্ভাগ্যজনক আখ্যা দিয়ে বলেন, মানুষের বিশ্বাস নিয়ে খেলা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
নির্বাচনী এলাকায় শান্তি রক্ষার নামে ‘শান্তি কমিটি’ গঠনের খবরেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিএনপি। নজরুল ইসলাম খান বলেন, শান্তি কমিটি শব্দটির সঙ্গে তাদের তিক্ত অভিজ্ঞতা জড়িত। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত তাদের নেই। পাশাপাশি নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টা আগে নির্বাচনি এলাকার বাইরের নেতাকর্মীদের এলাকা ছাড়ার বিষয়ে কঠোর নির্দেশনার দাবি জানানো হয়েছে।
নির্বাচনে বিএনসিসি ক্যাডেটদের সম্পৃক্ত করার সম্ভাব্য উদ্যোগের বিরুদ্ধেও আপত্তি জানিয়েছে বিএনপি। তাদের মতে, সংসদ নির্বাচনের মতো স্পর্শকাতর রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় ছাত্রদের যুক্ত করা হলে তারা ও তাদের প্রতিষ্ঠান বিতর্কে জড়াতে পারে। আইন অনুযায়ী যাদের দায়িত্ব রয়েছে, কেবল তাদের দিয়েই আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজ পরিচালনার আহ্বান জানানো হয়। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে বলে জানান নজরুল ইসলাম খান।
এছাড়া ৮১টি সংস্থার ৫৫ হাজার পর্যবেক্ষক অনুমোদনের ক্ষেত্রেও নির্বাচন কমিশনকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয় বিএনপি। অচেনা ও অযোগ্য সংস্থাকে বেশি সংখ্যক পর্যবেক্ষক দিলে নির্বাচনি কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে।
বৈঠকে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ এবং নির্বাচন কমিশনের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. মোহাম্মদ জকরিয়াসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
বায়ান্ননিউজ২৪/আইরিন
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.