‘‘আওয়ামী লীগ থাকলে জামায়াত থাকবে’’- মাহফুজের বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক

প্রকাশিত: ৩০ জানুয়ারী, ২০২৬ ০৪:০০ (সোমবার)
‘‘আওয়ামী লীগ থাকলে জামায়াত থাকবে’’- মাহফুজের বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক

ভারতের প্রভাবশালী সাময়িকী দ্য উইককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতকে পরস্পরের পরিপূরক শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে বক্তব্য দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। ওই মন্তব্য প্রকাশের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনা।


সম্প্রতি ভারতের সাময়িকী দ্য উইক–কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেন, আওয়ামী লীগ থাকলে জামায়াত থাকবে এবং জামায়াত থাকলে আওয়ামী লীগ থাকবে। তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশে এই দুই দল এক ধরনের আদর্শিক দ্বিমেরু রাজনীতির অংশ এবং একে অপরের অল্টার ইগো হিসেবে কাজ করছে।

সাক্ষাৎকারে মাহফুজ আলম আরও বলেন, এই রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণেই তিনি বর্তমানে কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দিচ্ছেন না এবং আসন্ন নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না। এনসিপি ও জামায়াতের মধ্যে জোটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, এই জোটের কারণেই তিনি এনসিপিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন। তার ভাষায়, এটি তার একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, জামায়াতসহ সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক শক্তিগুলো বর্তমান অবস্থায় জনগণের সামনে গ্রহণযোগ্য নয় এবং নিজেদের আদর্শিক অবস্থানে পরিবর্তন না আনলে তাদের নতুন করে মানুষের কাছে আসা উচিত নয়।

মাহফুজ আলমের এই বক্তব্য প্রকাশের পরপরই রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনার ঝড় ওঠে। আওয়ামী লীগপন্থী বিশ্লেষকদের মতে, মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দলকে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত একটি রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে একই কাতারে দাঁড় করানো ইতিহাস বিকৃতি এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রাজনৈতিক বয়ান।

তাদের দাবি, এই ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে নৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। জামায়াতের রাজনীতির বিরুদ্ধে স্পষ্ট ও কঠোর অবস্থান না নিয়ে বরং আওয়ামী লীগকে দায়ী করার এই কৌশল মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী বলে মনে করছেন তারা।

এদিকে তথাকথিত জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। আওয়ামী লীগপন্থী মহলের অভিযোগ, ওই আন্দোলনের পেছনে মাহফুজ আলমের ভূমিকা ছিল এবং সেই ধারাবাহিকতায় এখন রাজনৈতিক বক্তব্যের মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা চলছে।

তবে মাহফুজ আলম দাবি করেছেন, তার বক্তব্যকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে এবং তিনি কোনো রাজনৈতিক পক্ষের হয়ে কাজ করছেন না। তবুও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, একজন সাবেক রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টার এমন মন্তব্য সাধারণ মতামত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই এবং এর রাজনৈতিক তাৎপর্য গভীর।

পর্যবেক্ষকদের মতে, দ্য উইকের মতো আন্তর্জাতিক মাধ্যমে দেওয়া এই বক্তব্য দেশের রাজনীতিতে নতুন করে বিভাজন তৈরি করতে পারে এবং আওয়ামী লীগকে দুর্বল করার প্রচেষ্টাকে আরও উসকে দিতে পারে।

বায়ান্ননিউজ২৪/এডিটর ইন চীফ

সম্পাদক ও প্রকাশক: গোলাম রসুল খান

মোবাইল: +44 7440589342

তথ্য ও প্রযুক্তি সহযোগী - আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.