মহাকাশে ৮০০ নতুন ও বিরল বস্তুর সন্ধান দিলো এআই

প্রকাশিত: ৩০ জানুয়ারী, ২০২৬ ০৩:৫২ (সোমবার)
মহাকাশে ৮০০ নতুন ও বিরল বস্তুর সন্ধান দিলো এআই

মহাকাশ গবেষণায় নতুন দিগন্ত খুলে দিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। হাবল টেলিস্কোপের দীর্ঘ ৩৫ বছরের সংরক্ষিত তথ্য বিশ্লেষণ করে একটি নতুন এআই টুল খুঁজে পেয়েছে আটশরও বেশি একেবারে অজানা ও বিরল মহাজাগতিক বস্তু, যেগুলোর অনেকটাই আগে কখনও নথিবদ্ধ হয়নি।


মহাকাশের জটিল ও বিশাল তথ্যভাণ্ডার বিশ্লেষণে মানুষের সীমাবদ্ধতাকে ছাপিয়ে এবার কার্যকর সহযোদ্ধা হয়ে উঠেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির দুই জ্যোতির্বিজ্ঞানী তৈরি করেছেন নিউরন নেটওয়ার্কভিত্তিক একটি এআই সিস্টেম, যা হাবল টেলিস্কোপে ধারণ করা বিপুলসংখ্যক মহাকাশচিত্র বিশ্লেষণ করে বিরল ও অসংগতিপূর্ণ বস্তু শনাক্ত করতে সক্ষম।

এই এআই মডেলের নাম রাখা হয়েছে ‘অ্যানোমালি ম্যাচ’। গবেষক ডেভিড ও’রিয়ান ও পাবলো গোমেজ হাবল লিগ্যাসি আর্কাইভের তথ্য ব্যবহার করে মডেলটিকে প্রশিক্ষণ দেন। এই আর্কাইভে রয়েছে হাবল স্পেস টেলিস্কোপ–এর গত ৩৫ বছরের হাজার হাজার বৈজ্ঞানিক ডেটাসেট।

মাত্র আড়াই দিনেরও কম সময়ে এআই সিস্টেমটি প্রায় ১০ কোটি মহাকাশচিত্র বিশ্লেষণ করে এক হাজার ৪০০টির বেশি সম্ভাব্য বিরল মহাজাগতিক বস্তুর তালিকা তৈরি করে। পরে গবেষকরা নিজেরা প্রতিটি বস্তু যাচাই করে দেখেন, এর মধ্যে ৮০০টিরও বেশি সম্পূর্ণ নতুন এবং আগে কখনও শনাক্ত হয়নি।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সি জানায়, প্রশিক্ষিত বিজ্ঞানীরা মহাকাশের অসংগতি শনাক্তে দক্ষ হলেও হাবল থেকে প্রাপ্ত তথ্যের পরিমাণ এত বিশাল যে মানুষের পক্ষে প্রতিটি সূক্ষ্ম বিষয় আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করা প্রায় অসম্ভব। এ জায়গাতেই এআই কার্যকর ভূমিকা রেখেছে।

নতুনভাবে শনাক্ত বস্তুগুলোর মধ্যে বড় একটি অংশে দেখা গেছে ছায়াপথের সংঘর্ষ ও একীভূত হওয়ার দৃশ্য। এসব ঘটনায় ছায়াপথ থেকে বেরিয়ে আসা তারকা ও গ্যাস দীর্ঘ লেজের মতো অদ্ভুত সব আকার তৈরি করেছে। পাশাপাশি মিলেছে গ্র্যাভিটেশনাল লেন্সের মতো বিরল ঘটনা, যেখানে একটি ছায়াপথের মহাকর্ষ বল পেছনের ছায়াপথের আলোকে বৃত্ত বা ধনুকের আকৃতিতে বিকৃত করে তোলে।

এ ছাড়া গবেষণায় উঠে এসেছে গ্রহ তৈরির চাকতি, পাশ থেকে দেখা বিশাল তারাপুঞ্জসমৃদ্ধ ছায়াপথ এবং বিচিত্র আকৃতির জেলিফিশ গ্যালাক্সি। সবচেয়ে রহস্যজনক দিক হলো, কিছু বস্তু এমনও পাওয়া গেছে, যেগুলো এখন পর্যন্ত পরিচিত কোনো মহাজাগতিক শ্রেণিতেই পড়ে না।

পাবলো গোমেজ বলেন, হাবল আর্কাইভের বৈজ্ঞানিক তথ্যের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এআইয়ের এটি একটি অনন্য প্রয়োগ। তার ভাষায়, হাবলের তথ্য নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা চললেও এত বিপুলসংখ্যক নতুন ও অজানা বস্তু এখনও লুকিয়ে ছিল, যা সত্যিই বিস্ময়কর।

গবেষকদের মতে, এই সাফল্য ইঙ্গিত দেয় যে ভবিষ্যতে আরও বড় ডেটাসেট ও বিশাল বৈজ্ঞানিক তথ্যভাণ্ডার বিশ্লেষণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুগান্তকারী ভূমিকা রাখতে পারে, যা মহাকাশের অজানা রহস্য উন্মোচনকে আরও ত্বরান্বিত করবে।

বায়ান্ননিউজ২৪/ফারজানা

সম্পাদক ও প্রকাশক: গোলাম রসুল খান

মোবাইল: +44 7440589342

তথ্য ও প্রযুক্তি সহযোগী - আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.