পদত্যাগের দুই মাস পরও সরকারি বাসায় আসিফ-মাহফুজ, নীতি নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন
রাষ্ট্র সংস্কারের কথা বললেও বাস্তবে নীতি নৈতিকতার প্রশ্নে ব্যর্থতার অভিযোগ উঠেছে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের বিরুদ্ধে। উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগের প্রায় দুই মাস পেরিয়ে গেলেও সরকারি বাসা না ছাড়ায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন সাবেক দুই ছাত্র উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলম।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করার প্রায় দুই মাস পর মাহফুজ আলম জানিয়েছেন, তিনি নির্বাচনের আগেই মন্ত্রিপাড়ার সরকারি বাসা ছেড়ে দেবেন। অন্যদিকে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া দাবি করেছেন, তিনি এক মাস আগেই সরকারি বাসা ছেড়ে দিয়েছেন।
তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন বলে উঠে এসেছে। বুধবার রাতে হেয়ার রোডের নিলয় ৬ নম্বর বাসায় দায়িত্বরত কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আসিফ মাহমুদ এখনো ওই সরকারি বাসা ব্যবহার করছেন। বাসায় দায়িত্বরত এক কর্মচারী বলেন, স্যার বাসা ছাড়েননি। আরেক কর্মচারীর ভাষ্য, তিনি বেশিরভাগ সময় পরিবাগে থাকলেও নিয়মিত এই বাসায় আসেন।
নিলয় ৬ এর আশপাশে দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক সদস্য জানান, ওই বাসা থেকেই আসিফ মাহমুদ তার কার্যক্রম পরিচালনা করেন এবং নিয়মিত লোকজন আসা যাওয়া করেন।
গত ১০ ডিসেম্বর প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলম। পরদিন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর তাদের পদত্যাগ কার্যকর হয়। সে হিসাবে পদত্যাগের পর প্রায় ৫০ দিন ধরে তারা সরকারি বাসায় অবস্থান করছেন।
এর মধ্যে আসিফ মাহমুদ জাতীয় নাগরিক পার্টির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। যদিও তিনি দাবি করেছেন, প্রায় এক মাস আগে সরকারি বাসা ছেড়ে দিয়ে পরিবাগের বাসায় বসবাস করছেন।
অন্যদিকে মাহফুজ আলম বর্তমানে হেয়ার রোডের উত্তরায়ণ ৩ নম্বর ডুপ্লেক্স বাংলোতে অবস্থান করছেন। বাসা ছাড়ার সময়সীমা জানতে চাইলে তিনি বলেন, নীতিমালায় নির্দিষ্ট সময় উল্লেখ না থাকলেও তিনি নির্বাচনের আগেই বাসা ছেড়ে দেবেন।
সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান জানান, সাবেক দুই উপদেষ্টা এখনো বাসা ছাড়েননি। তিনি বলেন, বিষয়টি তিনি সচিবকে অবহিত করেছেন এবং মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আবাসন বরাদ্দ নীতিমালায় সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের জন্য সময়সীমা থাকলেও মন্ত্রী বা উপদেষ্টাদের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট সময় উল্লেখ নেই বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। সেই দিন থেকেই আসিফ মাহমুদ স্থানীয় সরকার এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। মাহফুজ আলম ২৮ আগস্ট বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পান এবং পরে উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেন।
পদত্যাগের পরও সরকারি বাসা না ছাড়ায় নীতি নৈতিকতার প্রশ্ন উঠেছে বলে মনে করছেন প্রশাসনের সাবেক কর্মকর্তারাও। সাবেক সচিব ও বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সাবেক রেক্টর এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার বলেন, অতীতে পদত্যাগকারী মন্ত্রীরা দায়িত্ব ছাড়ার আগেই সরকারি সুবিধা ত্যাগ করেছেন, যা বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
তার মতে, সাবেক উপদেষ্টাদের এই অবস্থান রাষ্ট্রীয় নীতি নৈতিকতার ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ারই প্রতিফলন।
কৃতজ্ঞতা: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.