কঠোর সম্প্রচার আইন আসছে, লাইসেন্স ছাড়া টিভি ও ওটিটি চলবে না
রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় এমন তথ্য প্রচার, জুয়া বা প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন এবং লাইসেন্সবিহীন সম্প্রচার কার্যক্রম ঠেকাতে নতুন করে কঠোর আইনি কাঠামো আনতে যাচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সম্প্রচার অধ্যাদেশ ২০২৬ এর খসড়া প্রস্তুত করেছে, যেখানে কারাদণ্ড ও বড় অঙ্কের জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, খসড়া অধ্যাদেশ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মতামত চেয়ে মঙ্গলবার একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে মতামত দিতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে এমন কঠোর অধ্যাদেশের উদ্যোগ গণমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলছে।
খসড়ায় বলা হয়েছে, অধ্যাদেশ জারির পর সম্প্রচার কমিশন নামে পাঁচ সদস্যের একটি স্বতন্ত্র কমিশন গঠন করা হবে। কমিশনের চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগে উচ্চপর্যায়ের বাছাই কমিটি কাজ করবে। কমিশনে অন্তত একজন নারী কমিশনার রাখার বাধ্যবাধকতার কথাও উল্লেখ আছে। কমিশনের হাতে থাকবে নীতিমালা প্রণয়ন, সম্প্রচার কনটেন্ট তদারকি, জরিমানা আরোপ এবং চূড়ান্তভাবে লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিলের সুপারিশ করার ক্ষমতা।
লাইসেন্সের আওতায় আনা হচ্ছে টেরিস্ট্রিয়াল ও স্যাটেলাইট টিভি রেডিও, ক্যাবল টিভি, আইপি টিভি ও আইপি রেডিও, ডিটিএইচ, এফএম ও কমিউনিটি রেডিওর পাশাপাশি ওটিটি সার্ভিস, ভিডিও স্ট্রিমিং, ভিডিও অন ডিমান্ড প্ল্যাটফর্ম এবং বাণিজ্যিক অনলাইন ইনফোটেইনমেন্ট পোর্টাল ও অ্যাপস। খসড়ায় বলা হয়েছে, নির্ধারিত পদ্ধতিতে লাইসেন্স না নিলে সম্প্রচার কার্যক্রম নিষিদ্ধ হবে।
খসড়ায় শাস্তির ধারাগুলোতে বলা হয়েছে, লাইসেন্স ছাড়া সম্প্রচার চালালে সংশ্লিষ্টদের সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদণ্ড বা ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, জননিরাপত্তা বা জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হতে পারে এমন গোপন সামরিক বা বেসামরিক তথ্য প্রচারে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার প্রস্তাব রয়েছে।
এ ছাড়া জুয়া বাজি, অনুমোদনহীন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন, তামাক ও মদজাত পণ্য কিংবা প্রতারণামূলক ও বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন প্রচারে বিজ্ঞাপনদাতা ও সম্প্রচারে জড়িতদের দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। নির্দিষ্ট রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপনে প্রদর্শনের ক্ষেত্রেও শাস্তির কথা উল্লেখ আছে।
খসড়ায় আরও বলা হয়েছে, সম্প্রচার সংক্রান্ত অপরাধের বিচার হবে বিশেষ সম্প্রচার ট্রাইব্যুনালে এবং মামলা নিষ্পত্তির জন্য সময়সীমা ধরা হয়েছে ৯০ কার্যদিবস। কমিশনের সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ হলে সরকারের কাছে আপিল করা যাবে, তবে সরকারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে ধরা হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সম্প্রচার ব্যবস্থাপনাকে শৃঙ্খলায় আনার যুক্তি দেখিয়ে যেভাবে কমিশনকে শক্তিশালী করা হচ্ছে, তাতে সরকারের নিয়ন্ত্রণ বাড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। খসড়া অধ্যাদেশ নিয়ে মতামত সংগ্রহের পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে।
বায়ান্ননিউজ২৪/চৈতী
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.