দায়মুক্তির অধ্যাদেশে নতুন বিতর্কে জুলাই অভ্যুত্থান
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের আইনি সুরক্ষা দিতে দায়মুক্তি সংবলিত অধ্যাদেশ জারি করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে অভ্যুত্থানে জড়িতদের বিরুদ্ধে করা সব ধরনের মামলা প্রত্যাহারের বিধান রাখা হয়েছে, যা নতুন করে বিতর্ক ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
সোমবার জারি করা জুলাই গণঅভ্যুত্থান সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়ার কারণে দায়ের করা সব দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহার করা হবে এবং ভবিষ্যতেও এ সংক্রান্ত কোনো মামলা দায়ের করা যাবে না। সরকার প্রদত্ত প্রত্যয়ন সাপেক্ষে আদালত এসব মামলা আর গ্রহণ করবে না এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অব্যাহতি পাবেন।
অধ্যাদেশে অভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে। তবে এই তদন্তেও রয়েছে বিশেষ শর্ত। যদি নিহত ব্যক্তি কোনো বাহিনী বা প্রতিষ্ঠানের সদস্য হন, সে ক্ষেত্রে ওই বাহিনী বা প্রতিষ্ঠানের বর্তমান বা সাবেক কোনো কর্মকর্তাকে তদন্তে যুক্ত করা যাবে না। এছাড়া তদন্ত চলাকালে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার বা হেফাজতে নেওয়ার ক্ষেত্রেও কমিশনের পূর্বানুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টে সংঘটিত সহিংসতায় প্রায় ১৪০০ মানুষের প্রাণহানির তথ্য আন্তর্জাতিক মহল প্রকাশ করলেও অধ্যাদেশে হত্যাকাণ্ডের বিচার নয়, অনেক ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণকেই চূড়ান্ত নিষ্পত্তির পথ হিসেবে রাখা হয়েছে। অধ্যাদেশ অনুযায়ী, যদি কোনো হত্যাকাণ্ডকে রাজনৈতিক প্রতিরোধের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তাহলে সে ঘটনায় বিচারিক প্রক্রিয়ার পরিবর্তে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারবে মানবাধিকার কমিশন।
রাজনৈতিক প্রতিরোধ বলতে অধ্যাদেশে ফ্যাসিস্ট শাসকের পতন ঘটিয়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের উদ্দেশ্যে সংঘটিত কার্যাবলিকে বোঝানো হয়েছে। বিপরীতে, ব্যক্তিগত বা সংকীর্ণ স্বার্থে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডকে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির অপরাধমূলক অপব্যবহার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
আইনে আরও বলা হয়েছে, মানবাধিকার কমিশনের তদন্তে যদি অপরাধমূলক অপব্যবহার প্রমাণিত হয়, সে ক্ষেত্রে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে এবং আদালত সেটিকে পুলিশ প্রতিবেদন হিসেবে বিবেচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে। তবে রাজনৈতিক প্রতিরোধ হিসেবে চিহ্নিত হলে কোনো আদালতে মামলা বা অন্য কোনো আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা যাবে না।
অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতা ফ্যাসিস্ট শাসনের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেয় এবং জনশৃঙ্খলা পুনর্বহালের জন্য আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ ছিল অনিবার্য। সেই যুক্তিতেই সংবিধানের ৪৬ অনুচ্ছেদের আলোকে অভ্যুত্থানকারীদের দায়মুক্তি ও সুরক্ষা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এই অধ্যাদেশ ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে বলে গণ্য করা হবে এবং তা অবিলম্বে বলবৎ থাকবে। তবে ব্যাপক প্রাণহানি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মৃত্যু এবং সহিংসতার প্রেক্ষাপটে দায়মুক্তির এই বিধান আদৌ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে কি না ে সে প্রশ্ন এখন জোরালোভাবে উঠছে।
বায়ান্ননিউজ২৪/নিউজরুম এডিটর
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.