প্যারোলে মুক্তি না পেয়ে স্ত্রী-সন্তানকে কারা ফটকেই শেষ বিদায় ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দামের
রাজনৈতিক মামলায় কারাবন্দি অবস্থায় জীবনের সবচেয়ে মর্মান্তিক মুহূর্তের মুখোমুখি হয়েছেন বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দাম। স্ত্রী ও নয় মাসের শিশুসন্তানের মরদেহ শেষবারের মতো দেখার সুযোগ পান তিনি কারাগারের ফটকে, তাও মাত্র কয়েক মিনিটের জন্য।
শুক্রবার ২৩ জানুয়ারি বিকেলে বাগেরহাট সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নের সাবেকডাঙ্গা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে সাদ্দামের স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালী ও তাদের নয় মাস বয়সী শিশুসন্তানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন শনিবার ২৪ জানুয়ারি সন্ধ্যায় মরদেহ দুটি যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়।
কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে কারাফটকের ভেতরে সীমিত সময়ের জন্য স্ত্রী ও সন্তানের নিথর দেহ ছুঁয়ে দেখার সুযোগ দেওয়া হয় সাদ্দামকে। এরপর তাকে আবার কারাগারের নিজ ওয়ার্ডে পাঠানো হয়। যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা যায়, চব্বিশের জুলাই আগস্টের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় দায়ের করা একাধিক রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর থেকে কারাগারে রয়েছেন সাদ্দাম। স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরও তাকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়নি।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সুবর্ণা স্বর্ণালীকে ঘরের ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় এবং শিশুটিকে মেঝেতে নিথর অবস্থায় পাওয়া যায়। তবে এই মৃত্যু নিয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো মন্তব্য করা হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার তদন্ত চলছে।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে সাদ্দামকে মানবিক সুযোগ থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছে। তারা বলেন, হত্যা বা সহিংস কোনো মামলার আসামি না হয়েও তাকে স্ত্রী ও সন্তানের জানাজায় অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
স্বজনদের দাবি, তরুণ বয়সে স্বামী কারাগারে, সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা ও রাজনৈতিক চাপের মধ্যে পড়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন সুবর্ণা। তাদের মতে, এই পারিবারিক বিপর্যয়ের পেছনে চলমান দমনমূলক রাজনৈতিক বাস্তবতার দায় এড়াতে পারে না রাষ্ট্র।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা বলছেন, মুক্তিযুদ্ধপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত একটি পরিবারকে এভাবে মানবিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। একজন রাজনৈতিক কর্মী কারাগারে, আর তার পরিবার ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পরও রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ন্যূনতম সহানুভূতি দেখানো হয়নি।
এই হৃদয়বিদারক ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, রাজনৈতিক মামলা ও দমননীতির শিকার পরিবারগুলোর প্রতি রাষ্ট্রের দায় কতটা। একটি তরুণ পরিবার নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার পরও যদি মানবিকতা অনুপস্থিত থাকে, তবে তা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য গভীর অশনিসংকেত বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.