মসজিদের নামে রাস্তায় বা যানবাহনে চাঁদা তোলা নিষিদ্ধ, জারি হলো নতুন নীতিমালা
মসজিদের নামে রাস্তাঘাটে বা যানবাহনে চাঁদা আদায় করা যাবে না। পাশাপাশি অবৈধ স্থানে নির্মিত মসজিদ উচ্ছেদের বিধান রেখে ‘মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ২০২৫’ জারি করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। গত ২১ জানুয়ারি ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই নীতিমালা গেজেট আকারে প্রকাশ করে।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, জনগণের স্বেচ্ছা দান, অনুদান, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বিদেশি সংস্থা কিংবা অন্যান্য বৈধ উৎসের আর্থিক সহায়তায় মসজিদ নির্মাণ ও পরিচালনা করা যাবে। তবে মসজিদের নামে কোনো ধরনের চাঁদা তোলা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।
মসজিদ নির্মাণের স্থান সংক্রান্ত বিধানে উল্লেখ করা হয়েছে, শরিয়াহ্ সম্মত স্থানে এবং সংশ্লিষ্ট মসজিদের নামে ওয়াকফ, দান, ক্রয়কৃত বা আইন অনুযায়ী যথাযথ কর্তৃপক্ষের বরাদ্দকৃত জমিতেই কেবল মসজিদ নির্মাণ করা যাবে। এই বিধান লঙ্ঘন করে অবৈধ স্থানে মসজিদ নির্মাণ করা হলে তা উচ্ছেদ করা হবে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন শাখা সূত্র জানায়, ওয়াকফ বা মসজিদের নামে নিবন্ধিত নয় এমন জমিতে কিংবা সরকারের অনুমতি ছাড়া অন্যের মালিকানাধীন জায়গায় মসজিদ নির্মাণ অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে।
নীতিমালায় নারীদের জন্য সালাতের ব্যবস্থা রাখার সুযোগও রাখা হয়েছে। মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটি শরিয়তসম্মতভাবে নারীদের জন্য পৃথক সালাতের স্থান নির্ধারণ করতে পারবে।
এছাড়া মসজিদে কর্মরত কোনো ব্যক্তি রাজনৈতিক দলের কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পারবেন না। তবে অরাজনৈতিক দ্বীনি দাওয়াত, তাবলিগ জামাতের কার্যক্রম, পীর মাশায়েখদের জিকির আজকার ও নিয়মিত ওয়াজ মাহফিল পরিচালনার সুযোগ থাকবে, যাতে মুসল্লিদের সালাতে ব্যাঘাত না ঘটে।
নীতিমালায় ইমাম, খতিব ও অন্যান্য কর্মীদের জন্য বেতন কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। খতিব চুক্তিভিত্তিক বেতন পাবেন। সিনিয়র পেশ ইমাম পাবেন জাতীয় বেতন স্কেলের পঞ্চম গ্রেড অনুযায়ী। পেশ ইমাম ষষ্ঠ গ্রেডে, ইমাম নবম গ্রেডে, প্রধান মুয়াজ্জিন দশম গ্রেডে এবং মুয়াজ্জিন ১১তম গ্রেডে বেতন পাবেন। খাদিম, নিরাপত্তাকর্মী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে নিম্ন গ্রেড অনুযায়ী। আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও পাঞ্জেগানা মসজিদের ক্ষেত্রে সামর্থ অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ করা যাবে।
প্রত্যেক মসজিদের জন্য একটি ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে। এই কমিটির মেয়াদ হবে তিন বছর। যৌক্তিক কারণে সর্বোচ্চ এক বছর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো যেতে পারে।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অবৈধ জায়গায় মসজিদ নির্মাণ করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় যথাযথ কর্তৃপক্ষ উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করবে। সরকারের মতে, যত্রতত্র মসজিদ নির্মাণ সামাজিক ও প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি করে, তাই এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে।
বায়ান্ননিউজ২৪/সৈকত
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.