জামায়াতকে ঘিরে কৌশল বদলাচ্ছে ওয়াশিংটন, মার্কিন কূটনীতিকদের গোপন বার্তা ফাঁস

প্রকাশিত: ২৩ জানুয়ারী, ২০২৬ ০৩:২৭ (মঙ্গলবার)
জামায়াতকে ঘিরে কৌশল বদলাচ্ছে ওয়াশিংটন, মার্কিন কূটনীতিকদের গোপন বার্তা ফাঁস

বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইসলামপন্থি দলগুলোর উত্থানকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী উল্লেখযোগ্য ফল করতে পারে— এমন মূল্যায়নের ভিত্তিতে দলটির সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানোর কৌশল নিচ্ছে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম  ওয়াশিংটন পোস্ট–এর এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকায় কর্মরত মার্কিন কূটনীতিকদের অভ্যন্তরীণ আলোচনা ও এক গোপন বৈঠকের অডিও রেকর্ডের ভিত্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। ওই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের একজন কূটনীতিক জামায়াতে ইসলামীকে সম্ভাব্য রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে দলটির সঙ্গে ‘বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক’ গড়ে তোলার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, গত ১ ডিসেম্বর ঢাকায় নারী সাংবাদিকদের সঙ্গে মার্কিন কূটনীতিকদের একটি অপ্রকাশ্য বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ওই কূটনীতিক বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতি এখন ইসলামি ধারার দিকে ঝুঁকছে এবং আসন্ন নির্বাচনে জামায়াত তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে ভালো ফল করতে পারে।

বৈঠকে উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমরা তাদের বন্ধু হিসেবে চাই।” এমনকি জামায়াতের ছাত্রসংগঠনের নেতাদের টকশো বা গণমাধ্যমে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়েও আগ্রহ দেখান তিনি।

তবে একইসঙ্গে সতর্কবার্তাও দেন ওই কূটনীতিক। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জামায়াত ক্ষমতায় এসে যদি শরিয়াহভিত্তিক আইন চাপিয়ে দেয় বা এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেয় যা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়, তাহলে ওয়াশিংটনের হাতে শক্ত প্রতিক্রিয়ার সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করতে পারে, যার বড় আঘাত পড়বে তৈরি পোশাক শিল্পে। “পরদিনই শতভাগ শুল্ক আরোপ করা হতে পারে”— এমন মন্তব্যও করেন তিনি।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের মোট রপ্তানির বড় অংশ তৈরি পোশাক খাতনির্ভর। নারীদের কর্মঘণ্টা সীমিত করা বা কর্মক্ষেত্র থেকে সরিয়ে দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত নিলে যুক্তরাষ্ট্রে অর্ডার বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলেও ওই কূটনীতিক মন্তব্য করেন।

এ বিষয়ে ঢাকায় অবস্থিত আমেরিকান দূতাবাস–এর মুখপাত্র মনিকা শাই এক বিবৃতিতে বলেন, ডিসেম্বরের বৈঠকটি ছিল নিয়মিত ও অপ্রকাশযোগ্য আলোচনা। যুক্তরাষ্ট্র কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করে না এবং বাংলাদেশের জনগণ যাকেই নির্বাচিত করবে, তাদের সঙ্গেই কাজ করবে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এই গোপন আলোচনার বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য এড়ানো হয়েছে। দলটির মুখপাত্র মোহাম্মদ রহমান বলেন, গোপন কূটনৈতিক আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে তারা মন্তব্য করতে চান না।

রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন নিষিদ্ধ থাকার পর জামায়াত এখন মূলধারার রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে ফিরে এসেছে। অস্ট্রেলিয়ার ওয়েস্টার্ন সিডনি ইউনিভার্সিটির গবেষক মুবাশার হাসান মনে করেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় জামায়াত আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি সংগঠিত ও দৃশ্যমান।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, জামায়াতের পাশাপাশি অন্যান্য ইসলামপন্থি দলগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ বাড়ানোর কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র। এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, “আমরা চাই তারা আমাদের বন্ধু হোক।” তবে তিনি আবারও স্পষ্ট করেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের বিরুদ্ধে গেলে তার প্রতিক্রিয়াও হবে কঠোর।

এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ও কৌশল নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে নির্বাচনপূর্ব সময়ে ইসলামপন্থি দলগুলোর সঙ্গে ওয়াশিংটনের এই ঘনিষ্ঠতার ইঙ্গিত দেশটির কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিশ্লেষকরা।

বায়ান্ননিউজ২৪/আবির

সম্পাদক ও প্রকাশক: গোলাম রসুল খান

মোবাইল: +44 7440589342

তথ্য ও প্রযুক্তি সহযোগী - আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.