নিরাপত্তা শঙ্কায় বাংলাদেশ থেকে কূটনীতিকদের পরিবার সরিয়ে নিচ্ছে ভারত

প্রকাশিত: ২১ জানুয়ারী, ২০২৬ ০৬:১৬ (মঙ্গলবার)
নিরাপত্তা শঙ্কায় বাংলাদেশ থেকে কূটনীতিকদের পরিবার সরিয়ে নিচ্ছে ভারত

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এই প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির কথা বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশে কর্মরত নিজেদের কূটনৈতিক কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদের দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত।

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার পর্যায়ে মঙ্গলবার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা পিটিআই ও একাধিক ভারতীয় গণমাধ্যম। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনসহ চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী ও খুলনার সহকারী হাইকমিশনে কর্মরত কূটনীতিক ও কর্মকর্তাদের স্ত্রী সন্তানসহ পরিবারের সদস্যদের পর্যায়ক্রমে ভারতে ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশে ভারতের সব কূটনৈতিক মিশন খোলা থাকবে এবং নিয়মিত কার্যক্রম চলবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় এটিকে একটি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ কূটনৈতিক পোস্টিং হিসেবে বিবেচনা

নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলোর বরাতে জানা গেছে, ভারত বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘পরিবার-বহির্ভূত কূটনৈতিক পোস্টিং’ হিসেবে বিবেচনা করতে শুরু করেছে। এর আগে ভারত এই শ্রেণিভুক্ত করেছিল আফগানিস্তান, ইরাক, পাকিস্তান ও দক্ষিণ সুদানের মতো উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে। বাংলাদেশের নাম সেই তালিকায় যুক্ত হওয়ায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সূত্র জানায়, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে জানুয়ারির শুরু থেকেই। কূটনৈতিক কর্মকর্তাদের পরিবারকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং জানুয়ারির মাঝামাঝির মধ্যেই অধিকাংশ পরিবার দেশে ফিরে গেছে।

সরকারের আশ্বাসের বাইরে বাস্তবতা ভিন্ন

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও নির্বাচন সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের আশ্বাস আন্তর্জাতিক মহলে আস্থা সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ভারতীয় এই পদক্ষেপ সেই বাস্তবতাকেই প্রকাশ করছে।

সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক সহিংসতা, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, কূটনৈতিক উত্তেজনা এবং হত্যাকাণ্ডের ঘটনাগুলো বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। বিশেষ করে কিছু ঘটনার জেরে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক পর্যায়ে পালটা তলব ও বক্তব্যের ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তোলে।

নির্বাচন পূর্ব নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ

বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে কোনো প্রতিবেশী দেশের এমন সিদ্ধান্ত শুধু সতর্কতামূলক নয়, বরং এটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ও সরকারের নিয়ন্ত্রণ সক্ষমতা নিয়ে বড় ধরনের অনাস্থার প্রতিফলন।

ভারতের এই সিদ্ধান্ত অস্থায়ী হলেও এটি একটি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে—নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে সহিংসতা বা অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হচ্ছে।

এর আগে ২০১৬ সালের ঢাকার গুলশান হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রও বাংলাদেশে কর্মরত কূটনীতিকদের পরিবার প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। সে অভিজ্ঞতার আলোকে ভারতের এই পদক্ষেপ নতুন না হলেও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনের আগে সরকার যদি বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়, তবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ও কূটনৈতিক অবস্থান আরও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

বায়ান্ননিউজ২৪/আবির

সম্পাদক ও প্রকাশক: গোলাম রসুল খান

মোবাইল: +44 7440589342

তথ্য ও প্রযুক্তি সহযোগী - আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.