গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে কঠোর বার্তা দিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর
গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি ও ইউরোপের একাধিক দেশের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ঘোষণায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার একমাত্র সেখানকার জনগণ ও ডেনমার্কের—বাইরের কোনো চাপ বা হুমকি গ্রহণযোগ্য নয়।
সোমবার ডাউনিং স্ট্রিটে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে স্টারমার বলেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইন ও গণতান্ত্রিক নীতির আলোকে হতে হবে। তিনি বলেন, “গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কেবল গ্রিনল্যান্ডের জনগণ ও ডেনমার্কের। এই মৌলিক নীতির প্রশ্নে যুক্তরাজ্যের অবস্থান স্পষ্ট ও দৃঢ়।”
একই সঙ্গে ইউরোপের আটটি দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ঘোষণাকে কঠোরভাবে সমালোচনা করেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, শুল্ক আরোপ করে চাপ সৃষ্টি করা কোনো সমাধান নয়। এতে সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হয়, পণ্যের দাম বাড়ে এবং সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন সাধারণ মানুষ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী জনগোষ্ঠী।
স্টারমার সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ বাণিজ্য যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়ায় এবং দীর্ঘমেয়াদে কারও স্বার্থ রক্ষা করে না। যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি ও শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থ সুরক্ষায় তার সরকার সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।
গ্রিনল্যান্ডকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক উত্তেজনাকে ‘গুরুতর’ উল্লেখ করে স্টারমার বলেন, এই মুহূর্তে ইউরোপীয় দেশগুলোর ঐক্য অত্যন্ত জরুরি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, মতপার্থক্য থাকলেও তা শান্তিপূর্ণ আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে সমাধান করা উচিত।
এদিকে অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, শুল্ক কার্যকর হলে যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। শেয়ারবাজারেও এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের অবস্থান শুধু ইউরোপ–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কেই নয়, বরং বৈশ্বিক রাজনীতি ও নিরাপত্তা কাঠামোতেও নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় দেশগুলোর কূটনৈতিক অবস্থান ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.