গ্রিনল্যান্ড ঘিরে উত্তেজনা: সামরিক উপস্থিতি জোরদার করছে ডেনমার্ক

প্রকাশিত: ১৫ জানুয়ারী, ২০২৬ ০৩:৩৭ (সোমবার)
গ্রিনল্যান্ড ঘিরে উত্তেজনা: সামরিক উপস্থিতি জোরদার করছে ডেনমার্ক

গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই দ্বীপটিতে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে ডেনমার্ক। এই উদ্যোগে জার্মানি ও ফ্রান্সসহ একাধিক ইউরোপীয় মিত্র দেশের সক্রিয় সমর্থন পাচ্ছে কোপেনহেগেন। আর্কটিক অঞ্চলে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে থাকায় নেটোভুক্ত দেশগুলো যৌথভাবে সেনা, বিমান ও নৌযান মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বুধবার হোয়াইট হাউজে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠকে আর্কটিক নিরাপত্তা ও গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হয়। ডেনিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৈঠকটি সৌহার্দ্যপূর্ণ হলেও গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের অবস্থান এখনও ভিন্ন রয়ে গেছে।

ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লোক্কে রাসমুসেন বলেন, আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি যৌথ পথ খুঁজে বের করাই ছিল বৈঠকের মূল লক্ষ্য। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানান, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে ডেনমার্ক একমত নয়। গ্রিনল্যান্ড বিক্রির প্রশ্নই ওঠে না বলেও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান মোটজফেল্ড বলেন, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে যেতে চায় না। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিত্র হিসেবে সহযোগিতা বাড়াতে তারা আগ্রহী। তার ভাষায়, মিত্রতা মানে মালিকানা নয়।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও দাবি করেছেন, রাশিয়ার সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকা কৌশলগতভাবে জরুরি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য গ্রিনল্যান্ড অত্যাবশ্যক। তবে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড এই বক্তব্যকে অপ্রয়োজনীয় ও বেপরোয়া বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

এই প্রেক্ষাপটে ডেনমার্ক ঘোষণা দিয়েছে, ২০২৬ সালজুড়ে গ্রিনল্যান্ড ও আশপাশের আর্কটিক অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো হবে। ডেনিশ সশস্ত্র বাহিনীর বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই পদক্ষেপ নেটোভুক্ত মিত্রদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে। জার্মানি, ফ্রান্স, সুইডেন ও নরওয়ে এই উদ্যোগে অবদান রাখবে।

ইতোমধ্যে সুইডেন গ্রিনল্যান্ডে সামরিক সদস্য পাঠানো শুরু করেছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, ডেনমার্কের নেতৃত্বে পরিচালিত ‘অপারেশন আর্কটিক এনডিওরেন্স’-এর অংশ হিসেবে সুইডিশ বাহিনী যৌথ প্রস্তুতিতে অংশ নেবে।

বিশ্লেষকদের মতে, গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে এই সামরিক তৎপরতা শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের দ্বন্দ্ব নয়, বরং আর্কটিক অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক শক্তি প্রতিযোগিতারই প্রতিফলন। ইউরোপীয় দেশগুলোর সক্রিয় ভূমিকা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, গ্রিনল্যান্ড প্রশ্নে কোপেনহেগেন একা নয়।

বায়ান্ননিউজ২৪/আবির

সম্পাদক ও প্রকাশক: গোলাম রসুল খান

মোবাইল: +44 7440589342

তথ্য ও প্রযুক্তি সহযোগী - আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.