বাংলাদেশের জন্য মার্কিন দরজা বন্ধ!
বাংলাদেশসহ বিশ্বের অন্তত ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য মার্কিন অভিবাসন ভিসা কার্যক্রম স্থগিত করার সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশের জন্য বড় ধরনের দুঃসংবাদ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্বল কূটনৈতিক অবস্থান ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কার্যকর ভূমিকার অভাব এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানায়, ট্রাম্প প্রশাসন ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য সব ধরনের অভিবাসন ভিসা প্রক্রিয়া অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে। এই সিদ্ধান্তের আওতায় বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল, ইরান, মিশর, রাশিয়াসহ এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার বহু দেশ রয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র জানান, আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। অভিবাসন ভিসা প্রক্রিয়া পুনর্মূল্যায়ন না হওয়া পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে। তবে ঠিক কী কারণে বা কোন মানদণ্ডে এই দেশগুলোর নাগরিকদের ভিসা স্থগিত করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কনস্যুলার অফিসগুলোকে চিঠির মাধ্যমে নির্দেশনা দিয়েছে। চিঠিতে বিদ্যমান অভিবাসন আইনের আওতায় ভিসা আবেদন আরও কঠোরভাবে যাচাই করে প্রয়োজনে প্রত্যাখ্যান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট এক বিবৃতিতে বলেন, ৭৫টি দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে অভিবাসন প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে, যাতে মার্কিন অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার রোধ করা যায়। তিনি বলেন, পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে ঝুঁকিপূর্ণ বা সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করা আবেদনকারীদের শনাক্ত করা হবে।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব গভীর হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রতি বছর হাজার হাজার বাংলাদেশি নাগরিক কর্মসংস্থান, পরিবার পুনর্মিলন ও স্থায়ী বসবাসের উদ্দেশ্যে মার্কিন অভিবাসন ভিসার জন্য আবেদন করেন। হঠাৎ করে এই প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বহু পরিবার অনিশ্চয়তায় পড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সরকারের কূটনৈতিক দুর্বলতা ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে আস্থার ঘাটতি এই সংকটকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তারা বলছেন, যেখানে অনেক দেশ দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে নিজেদের নাগরিকদের স্বার্থ রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা রাখছে, সেখানে বাংলাদেশ কার্যত নীরব দর্শকের ভূমিকায় রয়েছে।
তাদের আরও বক্তব্য, একটি অন্তর্বর্তী সরকার হিসেবে বাংলাদেশের উচিত ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদার করা এবং এই সিদ্ধান্তের আগে বা পরে অন্তত ব্যাখ্যা ও ছাড় আদায়ের চেষ্টা করা। কিন্তু সে ধরনের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ এখনো দেখা যায়নি।
ভিসা স্থগিতাদেশের তালিকায় বাংলাদেশ ছাড়াও আফগানিস্তান, আলজেরিয়া, ব্রাজিল, নাইজেরিয়া, থাইল্যান্ড, ইয়েমেন, সুদান, সিরিয়া, হাইতি, কিউবা, ইরাক, লেবানন, মরক্কোসহ বহু দেশ রয়েছে।
পররাষ্ট্র বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু অভিবাসন ইস্যু নয়, বরং বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অবস্থান ও কূটনৈতিক সক্ষমতার প্রতিফলনও বটে। দ্রুত কার্যকর ও দৃঢ় কূটনৈতিক পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য আন্তর্জাতিক সুযোগ আরও সংকুচিত হতে পারে বলে তারা সতর্ক করেছেন।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.