গাজায় আইএসএফে যোগদানের বিতর্কিত সিদ্ধান্তে সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
গাজায় প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী আইএসএফে বাংলাদেশের যোগদানের সম্ভাবনা নিয়ে সরকারের অবস্থান ঘিরে দেশজুড়ে বিতর্ক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন জানিয়েছেন, এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে আলোচনা চলমান রয়েছে। সমালোচকদের মতে, এই উদ্যোগ বাংলাদেশের মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি ও দীর্ঘদিনের ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
বুধবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আইএসএফে কারা থাকবে, কীভাবে কাজ করবে এবং পরিবেশ কী রকম হবে এসব বিষয় এখনো স্পষ্ট নয়। তিনি জানান, বাংলাদেশ তিনটি শর্ত ছাড়া কোনো পরিস্থিতিতেই এই বাহিনীতে অংশ নেবে না। শর্তগুলো হলো যুদ্ধের পরিবেশ না থাকা, স্থানীয় জনগণের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ থাকা এবং সরাসরি সংঘাতে জড়ানোর প্রয়োজন না হওয়া।
তবে সরকারের এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ মানুষ। তাদের মতে, গাজায় ইসরায়েলি হামলায় হাজার হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে মার্কিন উদ্যোগে গঠিত কোনো বাহিনীতে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। বাংলাদেশ বরাবরই ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং জাতিসংঘের মঞ্চে ইসরায়েলি আগ্রাসনের নিন্দা জানিয়েছে। এমন বাস্তবতায় আইএসএফে যোগদানের আলোচনা সেই ঐতিহাসিক অবস্থানকে দুর্বল করতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
বিশেষ করে ধর্মীয় অনুভূতির দিক থেকে বিষয়টি আরও সংবেদনশীল। মুসলিম প্রধান দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জনগণের বড় একটি অংশ গাজা সংকটকে শুধু রাজনৈতিক নয়, বরং ধর্মীয় ও মানবিক প্রশ্ন হিসেবেও দেখেন। ফলে এই সিদ্ধান্ত জনমনে ক্ষোভ ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।
সরকারের মেয়াদ শেষের দিকে এসে এমন একটি আন্তর্জাতিক সামরিক উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার চিন্তা কতটা যৌক্তিক, সে প্রশ্নও উঠেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সরকার থাকছে এবং রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। তবে সমালোচকরা বলছেন, একটি অনির্বাচিত অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত ছিল এ ধরনের স্পর্শকাতর বিষয়ে আরও সতর্ক ও স্বচ্ছ অবস্থান নেওয়া।
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান ওয়াশিংটন সফরে মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে আইএসএফে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা জানান। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে তীব্র আলোচনা শুরু হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি জাতিসংঘের সরাসরি তত্ত্বাবধানে এবং নিরপেক্ষ মানবিক কাঠামোর মধ্যে কোনো শান্তিরক্ষা উদ্যোগ হয়, তাহলে তা ভিন্নভাবে বিবেচিত হতে পারে। কিন্তু মার্কিন নেতৃত্বাধীন কোনো বাহিনীতে অংশগ্রহণ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বার্তা দিতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে গাজায় আইএসএফে যোগদানের বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত শুধু বিতর্কিতই নয়, বরং দেশের মানুষের আবেগ, বিশ্বাস ও দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ তা নিয়েও বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে।
বায়ান্ননিউজ২৪/চৈতী
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.