ইরানে বিক্ষোভে দুই সহস্রাধিক নিহতের দাবি রয়টার্সের
ইরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনে নিহতের সংখ্যা ভয়াবহভাবে বেড়ে অন্তত দুই হাজারে পৌঁছেছে। দেশটির এক জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, গত দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা সহিংস বিক্ষোভে এই বিপুল প্রাণহানি ঘটেছে।
অর্থনৈতিক সংকট, মুদ্রাস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার বিরুদ্ধে গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরানজুড়ে যে গণবিক্ষোভ শুরু হয়, তা দ্রুতই সহিংস রূপ নেয়। এই সংঘাতে নিহতদের মধ্যে সাধারণ বেসামরিক নাগরিকের পাশাপাশি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
সরকারি ওই কর্মকর্তা দাবি করেছেন, এই সহিংসতায় মূলত “সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ও উসকানিদাতারা” দায়ী। তবে নিহতদের মধ্যে কতজন বিক্ষোভকারী আর কতজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য দেননি তিনি।
তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ সংকট
বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনৈতিক বিপর্যয় থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন গত তিন দশকের মধ্যে ইরানি শাসকগোষ্ঠীর জন্য সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তেহরানের ওপর চাপ বেড়েছে, বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে।
ইরানি সরকার একদিকে বিক্ষোভের পেছনে থাকা অর্থনৈতিক ক্ষোভকে আংশিকভাবে ‘ন্যায্য’ বললেও, অন্যদিকে বিক্ষোভ দমনে কঠোর নিরাপত্তা অভিযান চালাচ্ছে। তেহরানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই আন্দোলনে উসকানি দিচ্ছে এবং কিছু “অজ্ঞাত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী” সাধারণ মানুষের প্রতিবাদকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
হাজারো গ্রেপ্তার, ইন্টারনেট প্রায় বন্ধ
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানিয়েছে, এই আন্দোলনে শুধু শত শত মানুষ নিহতই নয়, হাজার হাজার বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইরানে ইন্টারনেট ব্যবহারে ব্যাপক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। অনেক এলাকায় সংযোগ প্রায় পুরোপুরি বন্ধ, এমনকি সামরিক মানের জ্যামার ব্যবহার করে স্যাটেলাইটভিত্তিক স্টারলিঙ্ক সংযোগও অচল করা হয়েছে।
গত এক সপ্তাহে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, রাতের অন্ধকারে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর তীব্র সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ, অগ্নিসংযোগ এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ। রয়টার্স জানিয়েছে, এসব ভিডিওর একটি অংশ তারা স্বাধীনভাবে যাচাই করেছে।
পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিপুল প্রাণহানি এবং দমনমূলক ব্যবস্থা ইরানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে। আন্তর্জাতিক চাপের পাশাপাশি দেশের ভেতরের অসন্তোষ যদি আরও বাড়ে, তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স, এএফপি।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.