গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ডেনমার্ক ইতিহাসের কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে

প্রকাশিত: ১২ জানুয়ারী, ২০২৬ ২১:৪৭ (সোমবার)
গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ডেনমার্ক ইতিহাসের কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে

গ্রিনল্যান্ডকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাড়তে থাকা উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ডেনমার্ক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী মেট ফ্রেডরিকসন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলে শক্তি প্রয়োগের হুমকি নতুন করে দেওয়ার পর ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

 

ডেনমার্কের রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে এক বিতর্কে মেট ফ্রেডরিকসন বলেন, এটি কেবল একটি ভূখণ্ডের ভবিষ্যৎ নয় বরং আন্তর্জাতিক আইন, মূল্যবোধ এবং জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রশ্ন। এই মুহূর্তে নেওয়া সিদ্ধান্ত ইতিহাসে গভীর প্রভাব ফেলবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী জানান, মেরু অঞ্চল হোক বা বিশ্বের অন্য যেকোনো প্রান্ত ডেনমার্ক তার মূল্যবোধ রক্ষায় প্রস্তুত। আন্তর্জাতিক আইন এবং জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোই তাদের অবস্থান বলে তিনি উল্লেখ করেন।

 

গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে দাবি করে আসছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার যুক্তি অনুযায়ী রাশিয়া ও চীনের ক্রমবর্ধমান তৎপরতার কারণে খনিজসম্পদসমৃদ্ধ এই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা জরুরি। তবে ট্রাম্পের এই অবস্থান ইউরোপসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

 

সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসন যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য দখল পরিকল্পনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, গ্রিনল্যান্ড দখল আন্তর্জাতিক আইনের সরাসরি লঙ্ঘন হবে এবং এটি অন্য দেশগুলোকেও একই পথে হাঁটতে উৎসাহিত করতে পারে। তিনি ডেনমার্কের প্রতি সংহতি জানিয়ে বলেন, নর্ডিক দেশগুলো, বাল্টিক অঞ্চলের রাষ্ট্র এবং ইউরোপের একাধিক বড় দেশ ডেনমার্কের পাশে রয়েছে।

 

ওয়াশিংটনে বৈশ্বিক কাঁচামাল ইস্যুতে আলোচনার আগে জার্মানিও ডেনমার্কের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। আইসল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ওয়েডেহপুল মেরু অঞ্চলের নিরাপত্তাকে ন্যাটোর অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন।

 

এদিকে বেলজিয়ামের প্রতিরক্ষামন্ত্রী থিও ফ্রাঙ্কেন ন্যাটোর অধীনে মেরু অঞ্চলে নতুন একটি আর্কটিক নিরাপত্তা অভিযানের আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, বাল্টিক ও পূর্ব ইউরোপের বিদ্যমান মিশনের আদলে এই উদ্যোগ নেওয়া হলে গ্রিনল্যান্ডে রাশিয়া ও চীনের প্রভাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগও কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।

 

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশের সামরিক প্রধানরা গ্রিনল্যান্ডে ন্যাটোর সম্ভাব্য সেনা, যুদ্ধজাহাজ ও বিমান মোতায়েনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছেন। যুক্তরাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী হাইডি আলেকজান্ডার এই আলোচনা স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ বলে উল্লেখ করে বলেন, ক্রমেই প্রতিযোগিতাপূর্ণ হয়ে ওঠা মেরু অঞ্চলে আগ্রাসন মোকাবিলার প্রস্তুতি হিসেবেই এ উদ্যোগ দেখা হচ্ছে।

 

উল্লেখ্য, ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের উপনিবেশ ছিল। পরে ১৯৭৯ সালে অঞ্চলটি স্বায়ত্তশাসন লাভ করে এবং বর্তমানে ডেনমার্ক থেকে আরও স্বাধীনতার বিষয়টি বিবেচনা করছে। সাম্প্রতিক জনমত জরিপে গ্রিনল্যান্ডের জনগণের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দখল পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ব্যাপক বিরোধিতা উঠে এসেছে।

বায়ান্ননিউজ২৪/আবির

সম্পাদক ও প্রকাশক: গোলাম রসুল খান

মোবাইল: +44 7440589342

তথ্য ও প্রযুক্তি সহযোগী - আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.