মার্কিন হামলার হুমকিতে ইসরায়েল ও মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি ইরানের

প্রকাশিত: ১১ জানুয়ারী, ২০২৬ ২০:১০ (মঙ্গলবার)
মার্কিন হামলার হুমকিতে ইসরায়েল ও মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি ইরানের

যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে সামরিক হামলা চালালে ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও নৌপরিবহন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এ ঘোষণা দিয়েছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

 

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত বক্তব্যে গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসনে যায়, তাহলে ‘অধিকৃত ভূখণ্ড’ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও নৌঘাঁটিগুলো ইরানের বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। ইরান বরাবরই ইসরায়েলকে স্বীকৃতি না দিয়ে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখলকারী হিসেবে বিবেচনা করে আসছে। সে কারণেই বক্তব্যে ‘অধিকৃত ভূখণ্ড’ বলতে ইসরায়েলকে বোঝানো হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

 

চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মধ্যেই এই হুঁশিয়ারি এসেছে, যা অঞ্চলজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ইসরায়েল উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্র। তারা জানান, শনিবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত একাধিক বৈঠক হয়েছে। তবে এ বিষয়ে ইসরায়েলি সরকারের মুখপাত্র কিংবা সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

 

এর আগে গত বছরের জুনে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে টানা ১২ দিন সংঘর্ষ চলে। ওই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইসরায়েলের পক্ষে অবস্থান নিয়ে ইরানের ওপর বিমান হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান কাতারে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে।

 

বর্তমানে ইরানে ইন্টারনেট সংযোগ প্রায় সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকায় তথ্যপ্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। নেটওয়ার্ক পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকে দেশটির ইন্টারনেট কার্যক্রম স্বাভাবিক সময়ের মাত্র ১ শতাংশে নেমে এসেছে।

 

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানের বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, ইরান এখন স্বাধীনতার পথে এগোচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্র সাহায্য করতে প্রস্তুত। নিউ ইয়র্ক টাইমস ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের কাছে ইরানে হামলার একাধিক সামরিক বিকল্প উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে তিনি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। সামরিক নয় এমন লক্ষ্যবস্তুর ওপর সীমিত আঘাতের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।

 

শনিবার সকালে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন বলে জানা গেছে।

 

অন্যদিকে, চলমান বিক্ষোভ ঘিরে ইরানের পুলিশ ‘গুরুত্বপূর্ণ’ কয়েকজনকে গ্রেফতারের কথা জানিয়েছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে পুলিশপ্রধান আহমদ রেজা রাদান বলেন, দাঙ্গা সংগঠনে জড়িত মূল ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের শাস্তি দেওয়া হবে। তবে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের সংখ্যা বা পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

 

২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ প্রথমে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদ হিসেবে শুরু হলেও পরে তা ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে ক্ষমতাসীন ধর্মীয় শাসনের বিরুদ্ধে গণআন্দোলনে রূপ নেয়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএএনএ জানিয়েছে, এ পর্যন্ত বিক্ষোভে অন্তত ১১৬ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বেশির ভাগই বিক্ষোভকারী হলেও ৩৭ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য রয়েছেন।

 

ইরান সরকার এই অস্থিরতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করছে। পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, তা নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যসহ আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বায়ান্ননিউজ২৪/আবির

সম্পাদক ও প্রকাশক: গোলাম রসুল খান

মোবাইল: +44 7440589342

তথ্য ও প্রযুক্তি সহযোগী - আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.