‘মুজিব ভাই’ সিনেমা নিয়ে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ভুয়া চার হাজার কোটি টাকার অপপ্রচার

প্রকাশিত: ১০ জানুয়ারী, ২০২৬ ২২:৫২ (সোমবার)
‘মুজিব ভাই’ সিনেমা নিয়ে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ভুয়া চার হাজার কোটি টাকার অপপ্রচার

দেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই আওয়ামী লীগকে ঘিরে নতুন করে অপপ্রচারের ঝড় উঠেছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনীভিত্তিক অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র ‘মুজিব ভাই’ নির্মাণে চার হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে এমন দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়েছে। বাস্তবে এই তথ্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে প্রমাণ মিলেছে সরকারি শ্বেতপত্র ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে।

গত ৯ জানুয়ারি থেকে একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রচার করছে যে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ‘মুজিব ভাই’ সিনেমা বানাতে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে চার হাজার দুই শত এগারো কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে। এই দাবির সূত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে সরকারের প্রকাশিত ডাক ও টেলিযোগাযোগ খাতের শ্বেতপত্র। কিন্তু শ্বেতপত্রের মূল তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় সেখানে চার হাজার কোটি টাকার কোনো উল্লেখই নেই।

 

শ্বেতপত্রে যে হিসাবটি রয়েছে তা হলো ৪২১১ দশমিক ২২ লাখ টাকা। অর্থাৎ ৪২ কোটি ১১ লাখ ২২ হাজার টাকা। এই অর্থও কোনো একটি সিনেমার নির্মাণ ব্যয় নয়। শ্বেতপত্রে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে এই অর্থ বিভিন্ন অডিও ভিজ্যুয়াল ও রাজনৈতিক প্রচারণামূলক কার্যক্রমে ব্যয় হয়েছে। এর মধ্যে ছিল ৭ মার্চের ভাষণ বিষয়ক প্রকল্প, ‘খোকা’ নামের অ্যানিমেটেড সিরিজ, ‘মুজিব ভাই’ এবং আরও কিছু উদ্যোগ।

অর্থাৎ ৪২ কোটি টাকার এই ব্যয় একাধিক প্রকল্পে বিভক্ত। এটিকে একটি সিনেমার নির্মাণ ব্যয় হিসেবে দেখানো এবং সেটিকে চার হাজার কোটি টাকা বানিয়ে প্রচার করা সরাসরি অঙ্কগত বিকৃতি এবং রাজনৈতিক অপপ্রচার ছাড়া কিছু নয়।

চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায় ‘মুজিব ভাই’ একটি ৪৫ মিনিটের অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র। ২০২৩ সালের ২৩ জুন রাজধানীর একটি সিনেপ্লেক্সে এর প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়। চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ অবলম্বনে। এটি তৈরি করে আইসিটি বিভাগের একটি দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দেশীয় অ্যানিমেশন প্রতিষ্ঠানগুলো।

সিনেমাটি নিয়ে তখনকার তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন এটি তরুণদের অ্যানিমেশন শিল্পে উৎসাহিত করার পাশাপাশি ইতিহাস জানার একটি উদ্যোগ। চলচ্চিত্রটি পরে বিভিন্ন সিনেপ্লেক্স ও ডিজিটাল মাধ্যমে প্রদর্শিত হয় এবং এখনও অনলাইনে উন্মুক্ত রয়েছে।

চলচ্চিত্র অঙ্গনের একাধিক নির্মাতা জানিয়েছেন অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র হিসেবে ‘মুজিব ভাই’ এর বাজেট ছিল তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এর সাথে সংশ্লিষ্ট একজন তরুণ নির্মাতা বলেন তিনি যতটুকু জানেন প্রকল্পটির ব্যয় কয়েক কোটি টাকার মধ্যেই ছিল এবং এর একটি অংশ কর্পোরেট সহায়তা থেকেও এসেছে। চার হাজার কোটি টাকার দাবি সম্পূর্ণ অবাস্তব।

বিশ্লেষকদের মতে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় মদদে দীর্ঘদিন ধরেই ইতিহাস বিকৃতি ও উদ্দেশ্যমূলক অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। বঙ্গবন্ধুকে কেন্দ্র করে নির্মিত যেকোনো উদ্যোগকে বিতর্কিত করার একটি সুপরিকল্পিত চেষ্টা লক্ষ করা যাচ্ছে। শ্বেতপত্রের তথ্যকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানো সেই চেষ্টারই অংশ।

বাস্তবতা হলো কোথাও চার হাজার কোটি টাকা নেই। আছে ৪২ কোটি টাকার একটি সামগ্রিক হিসাব যা একাধিক প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে। সেটিকেই ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই ধরনের ভুয়া তথ্য শুধু একটি দল নয় বরং রাষ্ট্রীয় নথির বিশ্বাসযোগ্যতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে।

সচেতন মহলের মতে তথ্য যাচাই না করে এমন খবর ছড়ানো গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যম উভয়ের জন্যই দায়িত্বহীনতা। সত্য গোপন করে মিথ্যা প্রচার রাজনৈতিক বিভাজন আরও গভীর করছে। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে এই জঘন্য অপপ্রচারের নেপথ্যে কারা আছে তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলেও মনে করছেন অনেকে।

বায়ান্ননিউজ২৪/এডিটর ইন চীফ 

সম্পাদক ও প্রকাশক: গোলাম রসুল খান

মোবাইল: +44 7440589342

তথ্য ও প্রযুক্তি সহযোগী - আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.