যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড তালিকায় বাংলাদেশের নাম

প্রকাশিত: ০৭ জানুয়ারী, ২০২৬ ১২:২৮ (মঙ্গলবার)
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড তালিকায় বাংলাদেশের নাম

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা বন্ড তালিকায় এবার বাংলাদেশের নাম যুক্ত হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশি নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড বা ফেরতযোগ্য জামানত জমা দেওয়ার শর্ত আরোপ হতে পারে।

 

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ৬ জানুয়ারি ভিসা বন্ড কর্মসূচির আওতাভুক্ত দেশগুলোর হালনাগাদ তালিকা প্রকাশ করে। এতে বাংলাদেশসহ মোট ৩৮টি দেশের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই নিয়ম আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

 

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ভিসার জন্য আবেদনকারী যোগ্য বিবেচিত হলেও সংশ্লিষ্ট কনস্যুলার অফিসার চাইলে তার ওপর ভিসা বন্ডের শর্ত আরোপ করতে পারবেন। বন্ডের পরিমাণ নির্ধারিত হয়েছে তিনটি ধাপে— ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা ১৫ হাজার মার্কিন ডলার। আবেদনকারীর ব্যক্তিগত প্রোফাইল, ভ্রমণের উদ্দেশ্য ও ইন্টারভিউয়ের মূল্যায়নের ভিত্তিতে এই অঙ্ক নির্ধারণ করা হবে।

 

বন্ডের অর্থ যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম Pay.gov এর মাধ্যমে জমা দিতে হবে। তবে কনস্যুলার অফিসারের লিখিত নির্দেশনা ছাড়া কোনো অবস্থাতেই আগাম অর্থ জমা না দেওয়ার জন্য আবেদনকারীদের সতর্ক করা হয়েছে।

 

স্টেট ডিপার্টমেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, এই পাইলট কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থান বা ওভারস্টে প্রবণতা কমানো। যেসব দেশের নাগরিকদের ওভারস্টে হার তুলনামূলক বেশি, মূলত সেসব দেশকেই এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

 

তবে ভিসা বন্ড কোনো স্থায়ী অর্থদণ্ড নয়। এটি সম্পূর্ণ ফেরতযোগ্য জামানত। নির্দেশনা অনুযায়ী, নিম্নোক্ত পরিস্থিতিতে আবেদনকারী বন্ডের অর্থ ফেরত পাবেন—

• অনুমোদিত সময়সীমার মধ্যে বা তার আগেই যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করলে

• ভিসা পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ না করলে

• যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে প্রবেশের অনুমতি না পেলে

 

অন্যদিকে, কেউ যদি অনুমোদিত সময়ের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেন বা দেশটিতে গিয়ে ভিসার স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদন করেন, যেমন রাজনৈতিক আশ্রয় বা এসাইলাম চাইলে, সেক্ষেত্রে জামানতের অর্থ বাজেয়াপ্ত করা হবে।

 

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ভিসা বন্ড প্রদানকারী বাংলাদেশি যাত্রীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট তিনটি বিমানবন্দর ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই বিমানবন্দরগুলো হলো— বোস্টন লোগান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট, নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট এবং ওয়াশিংটন ডুলস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট। এসব নির্ধারিত পথের বাইরে প্রবেশ বা প্রস্থান করলে বন্ডের শর্ত লঙ্ঘন হয়েছে বলে গণ্য হতে পারে।

 

বাংলাদেশ ছাড়াও এই তালিকায় রয়েছে আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, ভুটান, কিউবা, জিবুতি, ফিজি, নাইজেরিয়া, নেপাল ও উগান্ডাসহ আরও কয়েকটি দেশ। বিভিন্ন দেশের ক্ষেত্রে এই নিয়ম ভিন্ন ভিন্ন তারিখে কার্যকর হচ্ছে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা পাওয়া আরও ব্যয়বহুল ও জটিল হয়ে উঠতে পারে, বিশেষ করে পর্যটক ও স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণকারীদের ক্ষেত্রে।

 

ভিসা বন্ড মূলত একটি আর্থিক নিশ্চয়তা ব্যবস্থা, যা ভ্রমণকারীদের ভিসার শর্ত মেনে চলতে বাধ্য করার জন্য ব্যবহৃত হয়। অতীতে কিছু দেশ সীমিত সময়ের জন্য এমন ব্যবস্থা চালু করলেও ব্যাপকভাবে তা কার্যকর হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ অভিবাসন নীতিতে আরও কড়াকড়ির ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বায়ান্ননিউজ২৪/আবির

সম্পাদক ও প্রকাশক: গোলাম রসুল খান

মোবাইল: +44 7440589342

তথ্য ও প্রযুক্তি সহযোগী - আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.