নির্বাচনের আগে বড় ঝুঁকি: থানা থেকে লুট হওয়া ১৫ শতাংশ অস্ত্র এখনো বাইরে

প্রকাশিত: ০৬ জানুয়ারী, ২০২৬ ১৯:৪৮ (মঙ্গলবার)
নির্বাচনের আগে বড় ঝুঁকি: থানা থেকে লুট হওয়া ১৫ শতাংশ অস্ত্র এখনো বাইরে

জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের সময় থানা থেকে লুট হওয়া বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদের একটি বড় অংশ এখনো উদ্ধার না হওয়ায় নির্বাচন কতটা নিরাপদ হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রের অন্তত ১৫ শতাংশ এবং গোলাবারুদের প্রায় ৩০ শতাংশ এখনো অবৈধভাবে মানুষের হাতে রয়ে গেছে। মঙ্গলবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ তথ্য প্রকাশ করেন।

ইসি সানাউল্লাহ বলেন, নির্বাচনের আগে এসব অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অত্যন্ত জরুরি। কারণ অস্ত্র হাতে থাকলে তা ব্যবহার করে ভোটের পরিবেশ নষ্ট করা, ভয়ভীতি দেখানো এবং সহিংসতা ছড়ানোর আশঙ্কা থেকে যায়। এক এলাকার সন্ত্রাসী যেন অন্য এলাকায় গিয়ে নিরাপদ আশ্রয় নিতে না পারে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোরভাবে সতর্ক থাকতে হবে বলেও জানান তিনি।

নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, আসন্ন নির্বাচনে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও সীমান্ত এলাকা বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। অস্ত্র পাচার ঠেকাতে রোহিঙ্গা ক্যাম্প সিল করা হবে। একই সঙ্গে স্থল সীমান্ত ও সাগরপথে নজরদারি বাড়ানো এবং চেকপোস্ট সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে।

রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ক্যাম্পগুলোতে কড়া নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে কোনো দুষ্কৃতকারী অস্ত্র ব্যবহার করে অপরাধ সংঘটিত করতে না পারে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে নির্বাচনের ওপর এর মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে।

ইসি সানাউল্লাহ সতর্ক করে বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরাপদভাবে সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হলে এর দায়ভার সবাইকে বহন করতে হবে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় বিভিন্ন থানা, ফাঁড়ি ও পুলিশের স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সে সময় থানা থেকে লুট হয় ৫ হাজার ৭৫৩টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৬ লাখ ৫১ হাজার ৮৩২ রাউন্ড গোলাবারুদ। অস্ত্র উদ্ধারে গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর যৌথ অভিযান শুরু হলেও এখন পর্যন্ত সব অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, মানুষের হাতে এখনো বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র থাকা অবস্থায় নির্বাচন আয়োজন করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। অস্ত্র উদ্ধার ছাড়া নির্বাচনে যাওয়া মানেই সহিংসতা ও প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি করা। ফলে নির্বাচন কতটা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরাপদ হবে, তা নিয়ে জনমনে গভীর শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বায়ান্ননিউজ২৪/এডিটর ইন চীফ 

সম্পাদক ও প্রকাশক: গোলাম রসুল খান

মোবাইল: +44 7440589342

তথ্য ও প্রযুক্তি সহযোগী - আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.