ভেনেজুয়েলায় ব্যাপক মার্কিন হামলা, প্রেসিডেন্ট দম্পতি আটক: দেশ চালাবে যুক্তরাষ্ট্র
ভেনেজুয়েলায় ব্যাপক সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। অভিযানের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, ভেনেজুয়েলায় শান্তিপূর্ণ ও ন্যায্যভাবে ক্ষমতার রদবদল না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রই দেশটি পরিচালনা করবে।
শনিবার স্থানীয় সময় একাধিক সংবাদ সম্মেলন ও বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, “ভেনেজুয়েলার জনগণ আবারও স্বাধীন। আমরা এমন লোকদের দায়িত্ব দেব, যারা দেশটিকে সঠিক পথে পরিচালনা করতে পারবে।”
‘অপারেশন অ্যাবসোলিউট রিজলভ’
মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, অভিযানের নাম ছিল ‘অপারেশন অ্যাবসোলিউট রিজলভ’। অভিযান পরিচালনাকারী জেনারেল ড্যান কেইনের ভাষ্য অনুযায়ী, মাদুরোর অবস্থান, চলাফেরা ও দৈনন্দিন অভ্যাস সম্পর্কে মাসের পর মাস গোয়েন্দা নজরদারি চালানো হয়।
তিনি জানান, শনিবার ভোর ১টা ১ মিনিটে মার্কিন বিশেষ বাহিনী মাদুরোর কম্পাউন্ডে প্রবেশ করে। সেখানে গোলাগুলির ঘটনা ঘটলেও মার্কিন বাহিনী “প্রচণ্ড শক্তি” প্রয়োগ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। ভোর ৩টা ২৯ মিনিটে মাদুরো ও তার স্ত্রী আত্মসমর্পণ করেন এবং পরে তাদের ইউএসএস আয়ু জিমা জাহাজে নেওয়া হয়।
মার্কিন প্রশাসনের দাবি, বর্তমানে তাদের নিউ ইয়র্কে নেওয়া হচ্ছে, যেখানে তারা “আমেরিকান বিচারের মুখোমুখি” হবেন।
যুক্তরাষ্ট্রই সাময়িকভাবে দেশ পরিচালনা করবে
ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ভেনেজুয়েলা পরিচালনার জন্য একটি অন্তর্বর্তী দল গঠন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা এখন লোকজন বাছাই করছি। যারা দেশটির জন্য অর্থ উপার্জন করতে পারবে এবং স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে।”
এ সময় তিনি ইঙ্গিত দেন, আপাতত যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বেই দেশটির প্রশাসনিক কার্যক্রম চলবে। প্রয়োজনে ভেনেজুয়েলার মাটিতে মার্কিন সেনা মোতায়েন রাখতেও যুক্তরাষ্ট্র পিছপা হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ডেলসি রদ্রিগেজের ভূমিকা
ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ মার্কিন অভিযানের পর প্রথম উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেন। তিনি মাদুরো ও তার স্ত্রীর জীবিত থাকার প্রমাণ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, ডেলসি রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। যদিও তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদুরো সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযানে যুক্তরাজ্য কোনোভাবেই জড়িত ছিল না। তিনি বলেন, এ বিষয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে তার কোনো আলোচনা হয়নি।
কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো এ ঘটনায় জাতিসংঘের জরুরি বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছেন এবং ভেনেজুয়েলা সীমান্তে সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছেন।
ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো এই হামলাকে দেশের বিরুদ্ধে “সবচেয়ে জঘন্য আগ্রাসন” বলে অভিহিত করে সারা দেশে তাৎক্ষণিকভাবে সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছেন।
তেল অবকাঠামোতে মার্কিন কোম্পানি
ট্রাম্প আরও বলেন, মার্কিন তেল কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলার ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামতে এগিয়ে আসবে এবং দেশটির অর্থনীতি পুনর্গঠনে কাজ করবে।
তার ভাষায়, “ভেনেজুয়েলার মানুষের জন্য এবার সত্যিকারের অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি হবে।”
বায়ান্ননিউজ২৪/আবির
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.