ভারতের কূটনীতিকের সঙ্গে ‘গোপন’ বৈঠকের কথা স্বীকার করলেন জামায়াত আমির
ভারতের বিরোধিতার রাজনীতি করে আসা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবার স্বীকার করলেন, চলতি বছরের শুরুতে তিনি একজন ভারতীয় কূটনীতিকের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছেন। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ তথ্য জানান।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের পর একটি জাতীয় সরকার গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জামায়াত আমির জানান, তিনি এমন সরকারে যোগ দিতে আগ্রহী। একইসঙ্গে তিনি জানান, ওই বৈঠকটি গোপন রাখার অনুরোধ এসেছিল ভারতীয় কূটনীতিকের পক্ষ থেকেই।
বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন,
“অন্যান্য দেশের কূটনীতিকরা প্রকাশ্যেই আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। কিন্তু ওই ভারতীয় কর্মকর্তা বৈঠকটি গোপন রাখার অনুরোধ করেন।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের সবাইকে একে অপরের প্রতি খোলা মনোভাব রাখতে হবে। সম্পর্ক উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই। আমরা অন্তত পাঁচ বছরের জন্য একটি স্থিতিশীল দেশ চাই। দলগুলো একসঙ্গে এলে জাতীয় সরকার গঠন সম্ভব।”
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে ভিন্ন বার্তা?
দীর্ঘদিন ধরেই জামায়াতে ইসলামী ভারতের বিরোধিতার রাজনীতি করে আসছে। দলটির বিভিন্ন নেতা প্রকাশ্যে ভারতবিরোধী বক্তব্য দিয়ে আসলেও, এবার গোপন বৈঠকের তথ্য সামনে আসায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রকাশ্যে বিরোধিতা আর পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক যোগাযোগ—এই দ্বৈত অবস্থান জামায়াতের রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে।
সরকার গঠন ও প্রধানমন্ত্রী প্রসঙ্গ
রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জামায়াত আমির বলেন, যে দল সবচেয়ে বেশি আসন পাবে, তাদের নেতা প্রধানমন্ত্রী হবেন। জামায়াত সর্বোচ্চ আসন পেলে তিনি নিজে প্রধানমন্ত্রী হবেন কি না—সে সিদ্ধান্ত দল নেবে বলেও জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতি প্রসঙ্গেও মন্তব্য
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে নিয়েও মন্তব্য করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, কোনো সরকারই বর্তমান রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে স্বস্তিতে থাকবে না। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগের সমর্থনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি হন মো. সাহাবুদ্দিন।
তবে এ বিষয়ে রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলার সময় রাষ্ট্রপতি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি আরও জটিল করতে চান না।
ভারতের প্রতিক্রিয়া
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। তবে ভারত সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, তারা বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।
পাকিস্তান প্রসঙ্গেও বক্তব্য
পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্নে জামায়াত আমির বলেন,
“আমরা সব দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক চাই। কোনো একটি দেশের দিকে ঝুঁকে পড়তে চাই না। সবাইকে সম্মান করি।”
সূত্র: রয়টার্স।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.