দিনাজপুর গার্লস স্কুলের ছাত্রী থেকে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১৩:৫৯ (মঙ্গলবার)
দিনাজপুর গার্লস স্কুলের ছাত্রী থেকে দেশের প্রথম  নারী প্রধানমন্ত্রী

বেগম খালেদা জিয়া ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট ভারতের জলপাইগুড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।জন্মের পর প্রথম দুই বছর তিনি জলপাইগুড়িতেই কাটান।১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর তার বাবা ইস্কান্দার মজুমদার দিনাজপুরে চলে আসেন এবং সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।

 

শৈশব ও শিক্ষা জীবন

 

খালেদা জিয়ার শৈশব ও শিক্ষা জীবন কেটেছে দিনাজপুরে।পাঁচ বছর বয়সে খালেদা খানম পুতুলকে তার বাবা দিনাজপুরের সেন্ট জোসেফ কনভেন্টে ভর্তি করান।সেখানেই তিনি প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন।পরবর্তীতে দিনাজপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় গার্লস স্কুল থেকে ১৯৬০ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন।এরপর দিনাজপুর সুরেন্দ্রনাথ কলেজে ভর্তি হয়ে ১৯৬৩ সালে ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

 

পিতৃপরিচয় ও পারিবারিক পটভূমি

 

বেগম খালেদা জিয়ার বাবা ইস্কান্দার মজুমদার ফেনী জেলার বর্তমান পরশুরাম উপজেলার শ্রীপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।তিনি একজন ব্যবসায়ী ছিলেন।ব্যবসার উন্নতির আশায় তিনি দিনাজপুরে আসেন এবং দেশভাগের পর মুদিপাড়ায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।

 

গ্রেড এইটের ছাত্র থাকাকালীন ১৯১৯ সালে ইস্কান্দার মজুমদার তার বোন ও ভগ্নিপতির সঙ্গে জলপাইগুড়িতে যান।সেখানে তিনি মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন এবং একটি চা বাগানে চাকরি নেন।পরবর্তীতে চাকরি ছেড়ে চায়ের ব্যবসা শুরু করেন।একপর্যায়ে তিনি জলপাইগুড়ি চা বাগান সমিতির সম্পাদক নির্বাচিত হন।

 

পারিবারিক জীবন

 

১৯৩৭ সালের ১৯ মার্চ ইস্কান্দার মজুমদারের সঙ্গে তৈয়বার বিয়ে হয়।তৈয়বা বর্তমান পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার চন্দনবাড়ীর বাসিন্দা ছিলেন।এই পরিবারটি টি ফ্যামিলি নামে পরিচিত ছিল।এই দম্পতির তিন মেয়ে ও দুই ছেলে সন্তান ছিল।খালেদা জিয়া ছিলেন তৃতীয় সন্তান।তার মা তৈয়বা মজুমদার একজন সমাজকর্মী ছিলেন এবং দিনাজপুরের বাড়িতে দুস্থ নারীদের জন্য একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিচালনা করতেন।বর্তমানে খালেদা জিয়ার বাবা মা কেউই জীবিত নেই।

 

বিয়ে ও দাম্পত্য জীবন

 

১৯৬০ সালের ৫ আগস্ট দিনাজপুরের মুদিপাড়ায় পিত্রালয়ে সেনাবাহিনীর তরুণ ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমানের সঙ্গে খালেদা খানম পুতুলের বিয়ে হয়।বিয়ের পর প্রথম চার বছর দাম্পত্য জীবন দিনাজপুরে কাটান তারা।খালেদা জিয়া বিয়ের পর স্বামীর গ্রামের বাড়ি বগুড়ার বাগবাড়িতেও বসবাস করেন।পরে জিয়াউর রহমানের কর্মস্থলের কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করেন।

 

রাজনীতিতে প্রবেশ

 

১৯৮১ সালের ৩০ মে রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের শিকার হলে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন একজন সাধারণ গৃহবধূ।রাজনীতির সঙ্গে তার সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না।এরশাদের শাসনামলে বিএনপিতে ভাঙন ধরানোর চেষ্টা শুরু হলে দলের নেতাদের অনুরোধে তিনি রাজনীতিতে আসেন।১৯৮২ সালে বিএনপিতে সাধারণ সদস্য হিসেবে যোগ দেন।এরপর ১৯৮৩ সালে ভাইস চেয়ারম্যান এবং ১৯৮৪ সালের আগস্টে দলের চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হন।

 

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উত্থান

 

১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর গণঅভ্যুত্থানের মুখে এরশাদের পতনের পর ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।এই নির্বাচনে পাঁচটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সবকটিতে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন বেগম খালেদা জিয়া।বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করে।

 

এর মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।একই সঙ্গে তিনি মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নির্বাচিত নারী সরকারপ্রধান হন।বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তিনি শুধু একটি নামই নন বরং নারী নেতৃত্বের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে দেশ ও মুসলিম বিশ্বে বিশেষ মর্যাদা অর্জন করেন।

বায়ান্ননিউজ২৪/আবির

সম্পাদক ও প্রকাশক: গোলাম রসুল খান

মোবাইল: +44 7440589342

তথ্য ও প্রযুক্তি সহযোগী - আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.