ঘুমের মধ্যে পায়ে টান ধরছে? জানুন কারণ ও করণীয়
গভীর ঘুমে হঠাৎ পায়ের ডিম বা কাফ মাসলে তীব্র যন্ত্রণায় ঘুম ভেঙে যাওয়ার অভিজ্ঞতা অনেকেরই আছে। তখন পা সোজা বা ভাঁজ—কিছুই করা যায় না। মনে হয় শিরা বা রগ এক জায়গায় দলা পাকিয়ে গেছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এ সমস্যাকে বলা হয় নকচারনাল লেগ ক্র্যাম্পস (Nocturnal Leg Cramps)।
শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ—সব বয়সী মানুষই কমবেশি এই সমস্যায় ভোগেন। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। জীবনযাত্রায় সামান্য পরিবর্তন ও কিছু সহজ ঘরোয়া উপায় মেনে চললেই এই যন্ত্রণা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
কেন হয় ঘুমের মধ্যে পায়ে টান?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এর অন্যতম প্রধান কারণ শরীরে পানির ঘাটতি (ডিহাইড্রেশন)।
এ ছাড়া—
ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের অভাব
দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে কাজ করা
অতিরিক্ত ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রম
গর্ভাবস্থা
বয়সজনিত পেশি দুর্বলতা
ডায়াবেটিস, থাইরয়েড বা স্নায়ুর কিছু সমস্যা
এসব কারণেও পেশিতে হঠাৎ টান ধরতে পারে।
ঘুমের মধ্যে পায়ে টান ধরলে কী করবেন?
হঠাৎ পায়ে টান ধরলে ভয় না পেয়ে নিচের উপায়গুলো অনুসরণ করুন—
স্ট্রেচিং:
আক্রান্ত পা সোজা করে পায়ের পাতাটি নিজের দিকে টানুন। হাত দিয়ে আঙুল ধরে টানলে কাফ মাসল প্রসারিত হয় এবং ব্যথা দ্রুত কমে।
হাঁটাচলা:
বিছানা থেকে নেমে ধীরে ধীরে কিছুক্ষণ হাঁটুন। এতে পেশি শিথিল হয়।
গরম সেঁক:
টান ধরা জায়গায় হট ওয়াটার ব্যাগ দিয়ে সেঁক দিন বা কুসুম গরম পানিতে গোসল করুন।
ম্যাসাজ:
অল্প তেল দিয়ে হালকা হাতে মালিশ করলে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে এবং আরাম পাওয়া যায়।
বারবার পায়ে টান ধরলে যেসব অভ্যাস জরুরি
এই সমস্যা প্রতিরোধে দৈনন্দিন জীবনে কিছু অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন—
পর্যাপ্ত পানি পান:
দিনে অন্তত ৩–৪ লিটার পানি পান করুন (শরীরের চাহিদা অনুযায়ী)।
পুষ্টিকর খাবার:
কলা, ডাবের পানি, পালং শাক, বাদাম, দই ও শাকসবজি—পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার খাদ্যতালিকায় রাখুন।
ঘুমানোর ভঙ্গি ঠিক করুন:
উপুড় হয়ে না ঘুমিয়ে চিত হয়ে বা কাত হয়ে ঘুমানো ভালো।
হালকা ব্যায়াম:
ঘুমানোর আগে পায়ের হালকা স্ট্রেচিং বা ১০–১৫ মিনিট হাঁটাহাঁটি উপকারী।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
সাধারণত ঘরোয়া উপায়েই নকচারনাল লেগ ক্র্যাম্পস নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে—
প্রায়ই পায়ে টান ধরলে
পা ফুলে গেলে
ব্যথা খুব বেশি বা দীর্ঘস্থায়ী হলে
অসাড়তা বা ঝিনঝিন ভাব থাকলে
অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। কারণ এটি কখনো কখনো ডায়াবেটিস, স্নায়ু বা রক্তনালির সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।
বায়ান্ননিউজ২৪/ফারহানা
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.