রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার ঘূর্ণিঝড়ে অস্থির বাংলাদেশ

প্রকাশিত: ০৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০২:১৭ (মঙ্গলবার)
রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার ঘূর্ণিঝড়ে অস্থির বাংলাদেশ

বায়ান্ননিউজ২৪:

নভেম্বর মাসে বাংলাদেশে এমন এক নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছে যা রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ প্রশ্নবিদ্ধ করে। মব হামলা থেকে শুরু করে কারা হেফাজতে মৃত্যু, রাজনৈতিক নিপীড়ন থেকে সাংবাদিক নির্যাতন সব ক্ষেত্রেই ভয়াবহ বৃদ্ধি দেশকে একটি অনিশ্চিত ও অস্থিতিশীল অবস্থায় ঠেলে দিচ্ছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর শক্ত ভাষার অভিযোগ হলো রাষ্ট্র এখন তার মূল দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও ভয় দেখানোর কৌশলকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

মব হামলা ও গণপিটুনির উত্থান রাষ্ট্রের ব্যর্থতার প্রতীক

এইচআরএসএস এর প্রতিবেদন বলছে নভেম্বরে ২০টি মব হামলায় ১৬ জন নিহত হয়েছেন। একটি সভ্য সমাজে গণপিটুনি নামের বর্বর ঘটনার ধারাবাহিক বৃদ্ধি শুধু আইনশৃঙ্খলার ভাঙন নয় বরং সমাজে সরকারের প্রতি আস্থার বিস্ময়কর কমতির ইঙ্গিত। বিশ্লেষকদের মতে রাষ্ট্র যখন ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয় তখন মানুষ নিজের হাতে বিচার নেওয়ার প্রবণতা বাড়ে আর এটিই বর্তমানে বাংলাদেশে অনিয়ন্ত্রিতভাবে ছড়িয়ে পড়ছে।

রাজনৈতিক সহিংসতা নির্বাচনকে ঘিরে ভয়ানক মাত্রায়

নভেম্বরে রাজনৈতিক সহিংসতার ৯৬টি ঘটনায় ১২ জন নিহত ও ৮৭৪ জন আহত হওয়া নির্বাচনী পরিবেশকে ক্রমেই ভয়ংকর করে তুলছে। মনোনয়ন কেন্দ্রিক সংঘর্ষ, দলীয় অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং প্রতিপক্ষ দমনে শক্তি প্রয়োগ এখন স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়েছে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ নির্বাচনী মাঠ দখলে রাখতে সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। ভিন্নমত দমনে কঠোরতা বাড়ানো হচ্ছে এবং এতে বিচারব্যবস্থা ব্যবহৃত হচ্ছে রাজনৈতিক টুল হিসেবে।

আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষদের বিরুদ্ধে নিপীড়ন বেড়ে যাওয়া প্রশ্ন তুলছে

প্রতিবেদনে দেখা যায় এই মাসে বিভিন্ন আইনে দায়ের হওয়া ৩৮টি মামলায় ১১৬৬ জনের নাম উল্লেখ করে ২৩০১ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে অনেক ক্ষেত্রেই আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সাধারণ নেতাকর্মীদেরই টার্গেট করা হচ্ছে।
এইচআরএসএস এর বক্তব্য বিচারহীনতার কারণে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একটি অংশ রাজনৈতিক সন্তুষ্টি অর্জনই বড় লক্ষ্য বানিয়েছে।

এক মাসে ১৯৯৩ জন গ্রেপ্তার এবং যৌথবাহিনীর অভিযানে ৬ হাজারের বেশি মানুষ আটক হওয়া একটি উদ্বেগজনক পরিবেশ তৈরি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে রাষ্ট্রীয় শক্তির এমন মাত্রাহীন ব্যবহার দেশে বিরোধ সৃষ্টি নয় বরং ভয় ছড়িয়ে দেওয়ার এক কৌশল।

বিচার ব্যবস্থা প্রহসনে পরিণত অভিযোগ মানবাধিকার কর্মীদের

মানবাধিকার কর্মীরা মনে করেন দেশের বিচার ব্যবস্থা এখন স্বাধীনতার জায়গা হারিয়ে রাজনৈতিক চাপের যন্ত্রে পরিণত হয়েছে। মামলা গ্রেপ্তার রিমান্ড জামিন সবকিছুতেই শাসক শক্তির প্রভাব স্পষ্ট।
বিচার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা না থাকলে দেশে আইনের শাসন ভেঙে পড়ে এবং রাষ্ট্রের ওপর জনগণের আস্থা ধ্বংস হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে ঠিক সেই পরিস্থিতিই তৈরি হচ্ছে বলছেন পর্যবেক্ষকরা।

নারী শিশু ও শ্রমিক নিরাপত্তা ভয়ানক সংকটে

নারী নির্যাতন ধর্ষণ শিশু নির্যাতন এবং শ্রমিক মৃত্যুর পরিসংখ্যান দেখায় যে মানুষের মৌলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার চরমভাবে অক্ষম।
১৭৭ জন নারী নির্যাতিত হওয়া ৪৮টি ধর্ষণের ঘটনা এবং ১০৩টি শিশু নির্যাতনের ঘটনা সমাজে সুরক্ষাব্যবস্থার ভাঙনকে নগ্ন করে দিয়েছে।

শ্রমিক নির্যাতন ও দুর্ঘটনায় ১৮ জনের মৃত্যু দেখায় শ্রম মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সম্পূর্ণ অকার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।

বাংলাদেশ একটি ভয়াবহ রাজনৈতিক ও মানবাধিকার সংকটের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। সহিংসতা বিচারহীনতা এবং প্রতিহিংসার রাজনীতি রাষ্ট্রকে এমন জায়গায় নিয়ে গেছে যেখানে গণতন্ত্রের মৌলিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ছে।


বিশেষজ্ঞদের মতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত মানুষের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা কিন্তু পরিবর্তে যে চিত্র ফুটে উঠছে তা হলো
রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা এখন জনগণের নয় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার স্বার্থে ব্যবহৃত হচ্ছে।

বায়ান্ননিউজ২৪/এডিটর ইন চীফ

সম্পাদক ও প্রকাশক: গোলাম রসুল খান

মোবাইল: +44 7440589342

তথ্য ও প্রযুক্তি সহযোগী - আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.