বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য বন্ধ হচ্ছে ব্রিটেনের দরজা
যুক্তরাজ্যের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান থেকে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি সাময়িকভাবে স্থগিত অথবা সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভিসা অপব্যবহার আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং যুক্তরাজ্য সরকারের নতুন কঠোর ভিসা নিয়মের প্রভাবকে এ সিদ্ধান্তের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো।
ব্রিটিশ দৈনিক ফিনান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে অন্তত নয়টি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানকে উচ্চ ঝুঁকির দেশ হিসেবে বিবেচনা করে ভর্তি নীতি নতুনভাবে সাজিয়েছে।
ভিসা প্রত্যাখ্যান হার বেড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্পনসর লাইসেন্স হুমকিতে
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে জানায় যে শিক্ষার্থী ভিসার আবেদনের সর্বোচ্চ ৫ শতাংশের বেশি প্রত্যাখ্যান করা যাবে না। আগে ছিল ১০ শতাংশ।
কিন্তু গত এক বছরে পাকিস্তান থেকে শিক্ষার্থী ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার ছিল প্রায় ১৮ শতাংশ এবং বাংলাদেশ থেকে ২২ শতাংশ। ফলে স্পনসর লাইসেন্স হারানোর ঝুঁকি এড়াতে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান থেকে ভর্তি সীমিত করেছে।
ইউনিভার্সিটি অব চেস্টার উলভারহ্যাম্পটন ইস্ট লন্ডন সান্ডারল্যান্ড কভেন্ট্রি হার্টফোর্ডশায়ার অক্সফোর্ড ব্রুকসসহ আরও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ইতিমধ্যেই ভর্তি স্থগিত করেছে।
আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা বাড়ায় বিতর্ক
যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায় কাজ অথবা পড়াশোনার ভিসায় দেশে প্রবেশের পর বাংলাদেশি এবং পাকিস্তানি নাগরিকদের একটি অংশ আশ্রয়প্রার্থীর আবেদন করছেন।
মন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা ঈগল বলেছেন
“স্টুডেন্ট ভিসা যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসবাসের পেছনের দরজা নয়।”
স্বল্প ফি নির্ভর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য বাস্তব সংকট
আন্তর্জাতিক শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন নতুন নীতির কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে সেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যেগুলো কম ফি এবং বিদেশি শিক্ষার্থীর ওপর নির্ভরশীল।
ভিনচেনজো রাইমো বলেন
“সমস্যাযুক্ত আবেদনের সংখ্যা অল্প হলেও তা বিসিএ মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে।”
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ এবং অনিশ্চয়তা
ভর্তি স্থগিত হওয়ায় হাজার হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী যারা ইতোমধ্যে আবেদন করেছেন অথবা আবেদন করতে যাচ্ছিলেন তারা এখন তীব্র অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।
পরামর্শকদের মতে
যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা করতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের এখন প্রতিটি নথি এবং যোগ্যতা আরো কঠোর যাচাইয়ের মুখে পড়বে
ভিসা ডকুমেন্ট তহবিল প্রমাণ এবং স্টাডি গ্যাপ সংক্রান্ত কাগজপত্র অত্যন্ত নিখুঁত হতে হবে
অনেক শিক্ষার্থী বিকল্প দেশ খোঁজা শুরু করেছেন
যুক্তরাজ্যের ব্যাখ্যা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মূল্য দিই তবে নিয়ম মেনে চলতে হবে
যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়
“আমরা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অত্যন্ত গুরুত্ব দিই তবে নিশ্চিত করতে চাই যারা এখানে আসে তারা প্রকৃত শিক্ষার্থী এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে।”
আগামীতে কী হতে পারে
অনেক বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ২০২৬ সালের নতুন সেশনে তারা নীতি পুনর্বিবেচনা করতে পারে। তবে ভিসা প্রত্যাখ্যান হার এবং কমপ্লায়েন্স সূচক পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অনিশ্চয়তাও রয়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান থেকে যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষা নিতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের জন্য তাই এখন অপেক্ষা এবং বিকল্প পরিকল্পনার সময়।
বায়ান্ননিউজ২৪/এডিটর ইন চীফ
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.