বিতর্কিত গণভোট অধ্যাদেশ পাস

প্রকাশিত: ২৫ নভেম্বর, ২০২৫ ১৪:৩৭ (মঙ্গলবার)
বিতর্কিত গণভোট অধ্যাদেশ পাস

বিতর্কের মধ্যে শেষ পর্যন্ত গণভোট অধ্যাদেশ-২০২৫-এর খসড়া নীতিমালার অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আলোচিত এই অধ্যাদেশ পাস হয়। সমালোচকরা বলছেন—“দখলদার সরকারের আরেকটি ভয়ংকর উদ্যোগ”—তবে সরকার এটিকে গণ-অংশগ্রহণের নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত ব্রিফিংয়ে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানান, ৩–৪ কার্যদিবসের মধ্যেই ‘গণভোট আইন’ প্রণয়ন করা হবে। তিনি আরও বলেন, প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণামতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।

ফেব্রুয়ারিতেই ভোট–গণভোট একসঙ্গে

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ১৩ নভেম্বর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে জানান, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে গণভোট আয়োজনের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন—এতে একদিকে নির্বাচন হবে আরও “উৎসবমুখর ও সাশ্রয়ী”, অন্যদিকে সংস্কার প্রক্রিয়াও এগিয়ে যাবে।

গণভোটে থাকবে যেসব প্রশ্ন

জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে ব্যালটে একটিমাত্র প্রশ্ন রাখা হলেও সেটির ভেতরে চারটি মূল প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে। ভোটারকে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’–এর মাধ্যমে মতামত জানাতে হবে। প্রস্তাবগুলো হলো—

ক. নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদ অনুযায়ী গঠন।
খ. আগামী সংসদ হবে দুই কক্ষবিশিষ্ট; ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ। সংবিধান সংশোধনে উচ্চকক্ষের অনুমোদন বাধ্যতামূলক।
গ. নারী প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নিয়োগ, সংসদীয় কমিটিতে ক্ষমতার ভারসাম্য, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণসহ জুলাই সনদের ৩০টি সংস্কার বাস্তবায়নে বিজয়ী দলগুলোর বাধ্যবাধকতা।
ঘ. অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাস্তবায়ন।

বিতর্ক থামছেই না

একদিকে সরকার এটিকে সাংবিধানিক সংস্কারের ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে দাবি করলেও সমালোচকদের অভিযোগ—গণভোটের প্রক্রিয়া ও সময় নির্ধারণে জনপরামর্শ নেই, বরং দ্রুততার মাধ্যমে একটি ‘পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্ত’ চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বলছে, “এটি একটি নিয়ন্ত্রিত গণভোট, যার পরিণতি দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলবে।”

বায়ান্ননিউজ২৪/আবির

সম্পাদক ও প্রকাশক: গোলাম রসুল খান

মোবাইল: +44 7440589342

তথ্য ও প্রযুক্তি সহযোগী - আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.