লকডাউন এবং আওয়ামী লীগের কৌশলী রাজনীতি

প্রকাশিত: ১৩ নভেম্বর, ২০২৫ ২২:৩০ (সোমবার)
লকডাউন এবং আওয়ামী লীগের কৌশলী রাজনীতি

“রাস্তা ফাঁকা হইলে এখানে আপনারা আইলেন কেমনে?”—এমন প্রশ্নের উত্তর বোধহয় আবিস্কৃত হয়নি। এমন প্রশ্ন ওয়ান অ্যান্ড অনলি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলমের পক্ষেই করা সম্ভব! একজন বললেন, উনি সেনাবাহিনীতে চাকরি করলেন কীভাবে? আমি ব্যক্তিগতভাবে এসব প্রশ্ন থেকে দূরে থাকি, তাই চুপ থাকলাম। তবে অন্য একজনের অভিমত—এমন লোকজনই নাকি উপরে উঠে। এখানেও আমার কোন মন্তব্য নাই।

অনেককে বলতে শুনছি—‘লকডাউন’ ঘোষণা দিয়ে ঘরে বসে থেকেছে আওয়ামী লীগ। কথা সত্য। বাইরে যাতে না বেরুতে হয়, এজন্যেই হয়ত এই কর্মসূচির নাম ‘লকডাউন’। এটা লকডাউন না হয়ে হরতাল-অবরোধ-ব্লকেড বা অন্য নামের কোন কর্মসূচি হতো, তবে রাস্তায় নামা লাগত তাদের। শক্তি-সামর্থ্য-প্রস্তুতি ও পরিপার্শ্ব বিবেচনায় এটা এই মুহূর্তে আওয়ামী লীগের জন্যে কঠিন। 

আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক কায়দা করে এমন এক কর্মসূচির নাম ঘোষণা করেছেন, যাতে কর্মসূচি সফল করতে রাস্তায় না নামতে হয়। এবং এটা এমনই এক কর্মসূচি, যেখানে রাস্তায় নামলে বরং কর্মসূচি ব্যর্থ হয়ে যেত। এটা লাঠি দিয়ে সাপ মারা নয়, লাঠি দেখিয়ে সাপ মারা মূলত।

আমি প্রথম থেকে বলে আসছি—এক অন্য ধরনের রাজনীতি করছে এখন আওয়ামী লীগ। তারা এমন সব কর্মসূচি দিচ্ছে, দেবে; যাতে দূরে বসেও দৃশ্যত নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেওয়া যায় সব। এই যে ‘লকডাউন’ এটা তেমনই এক। 

‘কই আওয়ামী লীগ, কোথায় আওয়ামী লীগ’—এটা যারা বলছেন, তারা ভুল ভাবছেন। যমুনার বৈঠকে ডাক পাওয়া মানে রাজনীতি নয়, ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে বৈঠকে বসে চা-নাস্তা করে আসা মানে রাজনীতি নয়। গণমাধ্যমে আওয়ামী লীগের বিরোধী নিউজের আধিক্য মানে রাজনীতি নয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বাদী-বাদীসহ সবার অভিন্ন চাওয়া মানে রাজনীতি নয়। রাজনীতি অন্য কিছু। আর এটা অন্য কিছু মানে এখানে টিকে থাকতে হলে ইতিহাস লাগে, লিগ্যাসি লাগে।

উদাহরণ তো অনেক দেওয়া যায়। প্রতি সরকারের আমলে কিংস পার্টির আবির্ভাব হয়। টিকে থাকতে দেখেছেন তাদের? ১/১১-এর শাসনামলে ফেরদৌস আহমেদ কোরেশীর দল দেখেছেন; মান্নান ভুঁইয়া-সাইফুর রহমানদের মাইনাস-টু ফর্মুলা বাস্তবায়নে পদক্ষেপ দেখেছেন; ড. ইউনূসের নাগরিক শক্তির আওয়াজ শুনেছেন; আওয়ামী লীগের আমলে নাজমুল হুদার দল, শমসের মবিন চৌধুরীর দল দেখেছেন; এখন তো দেখছেন এনসিপিকে…। আগের সবার যে পরিণতি হয়েছিল, এনসিপিও সেই পথে ইতোমধ্যে। অদ্যকার কিংস পার্টি এনসিপি ‘শাপলা’ হতে গিয়ে পরিণত হয়েছে ‘শাপলা কলি’তে। এরা তাদের পাওয়া প্রতীকের মতোই। এরবাইরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে আরও ভুঁইফোড় অনেক রাজনৈতিক দল নাজিল হতে দেখেছেন—এখনই এরা আলোচনার বাইরে। এটাই নিয়তি তাদের। 

যত যেভাবেই চিন্তা করুন না কেন—বাংলাদেশে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকবে আওয়ামী লীগ আর বিএনপি। অন্যদের বাঁচতে হবে পরগাছা হয়ে। এখানে যারা কৌশলী এবং সময়কে ধারণ করবে তারা যতই গর্তে পড়ুক না কেন উপরে উঠার সিঁড়ি ঠিকই পেয়ে যাবে।

গত বছরের আগস্টে আওয়ামী লীগ খাদে পড়ে গিয়েছিল। সেখান থেকে উঠে আসা অসম্ভব ভাবছিল যারা, আজকাল মাঝরাতে তাদের ঘুম ভাঙে আওয়ামী লীগের নামেই। এখানে আওয়ামী লীগকে কিছুই করতে হয়নি, তারা নিজেরাই এই পথ করে দিয়েছে।   
আগে অনেকবার বলেছি, সেটাই পুনরুল্লেখ করি—অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সবচেয়ে বড় ভুল হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের প্রতিপক্ষের শক্তি হিসেবে নিজেদের উপস্থাপন করা। এটা বাংলাদেশের মানুষের আত্মসম্মানে আঘাত করেছে। মুক্তিযুদ্ধ আমাদের বাঙালি জাতির কুলগর্ব। এখানে আঘাত লাগলে প্রত্যাঘাত হবেই। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আওয়ামী লীগকে আঘাত করতে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধকে আঘাত করার কারণেই তাদের অদ্যকার এই পরিণতি। এটাকে জামায়াত-এনসিপি-বিএনপিসহ অপরাপর দলগুলো প্রশ্রয় দিয়েছে। এর খেসারৎ অনেককে করুণভাবে দিতে হতে পারে।

আমাদের মতো সাধারণ মানুষেরা দিব্যদৃষ্টি নিয়ে জন্মায় না। তবে যে অন্তর্দৃষ্টি আমাদের, সেখান থেকে অনেক কিছু বলেছিলাম আমরা। তার অনেকটা মিলে যাচ্ছে, আরও অনেক কিছু মিলে যাওয়ার অপেক্ষায়। আমি আগে অনেকবার বলেছি—অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মুক্তিযুদ্ধ ও একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধীদের প্রশ্নে দেশকে ঠিক ২০০৮ সালের অবস্থায় নিয়ে যাচ্ছে। এর প্রমাণ কি মিলছে না?

‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ দিয়ে বিএনপিসহ ৩৩ রাজনৈতিক দল ও জোট মুক্তিযুদ্ধকে এবং ত্রিশ লাখ শহিদের রক্তে অর্জিত বাহাত্তরের সংবিধানকে যেভাবে অগ্রাহ্য করেছে এটা আমাদের জাত্যভিমানে লেগেছে। মুক্তিযুদ্ধ প্রশ্নে এখন এই দল-জোট ও সরকারের ওপর আস্থা রাখার সুযোগ নাই তাই। জুলাই দিয়ে যেভাবে একাত্তরকে প্রতিস্থাপন করার চেষ্টা হয়েছে—এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। 

আমরা বারবার বলতে চেয়েছি—‘মুক্তিযুদ্ধকে ধারণ করতে আওয়ামী লীগ হতে হয় না’; কিন্তু দেখুন ৩৩ দল ও জোট এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশে যে ন্যারেটিভ প্রতিষ্ঠা করেছে, তার ভাষা হচ্ছে—মুক্তিযুদ্ধের কথা বললেই তুমি আওয়ামী লীগ! এতে অনেক অ-আওয়ামী লীগার হয়ে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ, অথবা পরিচিতি পাচ্ছে আওয়ামী লীগার হিসেবে। এখন পুরো রাষ্ট্রশক্তি এবং প্রতিপত্তিশালী ৩৩ রাজনৈতিক দল ও জোট যদি কাউকে আওয়ামী লীগার বানিয়ে দেয়, তখন তাদের কী থাকে করার! এখানে আওয়ামী লীগের কৃতিত্ব নেই একবিন্দুও, তবে তারা সুফলভোগী হচ্ছে ক্রমশ। এটা হচ্ছে প্রতিপত্তিশালীদের ব্যর্থতা-অযোগ্যতা-অক্ষমতা আর মুক্তিযুদ্ধ নামের মহাকাব্যের শক্তি-সামর্থ্য।

আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানকের অনলাইনে ডাকা ‘ঢাকা লকডাউন’ সফল হয়েছে। এই কর্মসূচির আগে-পরে বেশ কিছু জ্বালাওপোড়াও হয়েছে। এগুলো কে করেছে এটা পরিষ্কার নয়। হতে পারে এসবের কিছু আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দ্বারা হয়েছে। তবে এখানে কেবল দলটির নেতাকর্মীদের দায়ী করাও উচিত হবে না, কারণ সবাই তো দেখল গুলিস্তানের বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আগুন ও ভাঙচুরের ঘটনা। ওটা সরকারপক্ষের লোকজন ইনকিলাব মঞ্চ এবং ছাত্রশিবিরের লোকজন করেছে। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন—ইনকিলাব মঞ্চ নামের ভুঁইফোড় সংগঠনের কথা। গণমাধ্যম বলছে—আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ছাত্রশিবিরের ব্যানার সাঁটানো হয়েছে। ফলে এই নাশকতা-আগুন-ভাঙচুরে এককভাবে কেবল আওয়ামী লীগকে দায়ী করা হবে অনুচিত। রাজধানীর কিছু জায়গায় ককটেল বিস্ফোরণ হয়েছে বলে কিছু গণমাধ্যমে দেখলাম, আবার সামাজিক মাধ্যমে ভিডিয়ো দেখলাম একজন পুলিশ সদস্যের ককটেল ছোঁড়ার দৃশ্য। সুতরাং দৃশ্যের অন্তরালের দৃশ্যকে অগ্রাহ্য করার উপায় দেখি না।

যে কারণে ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি দিলেন জাহাঙ্গীর কবির নানক, সেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ হয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ১৭ নভেম্বর রায় ঘোষণা করবেন ট্রাইব্যুনাল। ধারণা করা হচ্ছে সর্বোচ্চ দণ্ড দেওয়া হবে অন্তত দুইজনকে, এবং অপর আসামি আইজিপি রাজসাক্ষী হওয়ার সুবাদে দণ্ডিত হলেও সুযোগ থাকবে। এই বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে নানা আলোচনা আছে, তবে আলোড়ন নেই। গুরুত্বের ততটা পাচ্ছে না যতটা পাওয়ার কথা, অথচ এটাই হওয়ার কথা ছিল সর্বোচ্চ আলোচিত ঘটনা। এর কারণ বিচারপ্রক্রিয়া, যেখানে বিচারের চাওয়া শাস্তিই উদ্দেশ্য। 

ট্রাইব্যুনাল যদি সর্বোচ্চ দণ্ডও দেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে, তবু শাস্তি কার্যকর করা যাবে না। প্রথমত প্রথম দুইজন দেশে নেই, এবং তারা দেশে ফিরলেও দণ্ড পেতে আসবেন বলেও মনে হয় না। তাদের ফেরাতে সরকারের উদ্যোগ ব্যর্থ হয়েছে। ফলে দণ্ড কাগজেকলমে থেকে যাবে। এক্ষেত্রে যদি সত্যি সত্যি রাজনীতিতে ফিরে আসে আওয়ামী লীগ, তবে দণ্ড কার্যকরের অবস্থা তখন দেশে নাও থাকতে পারে। এক্ষেত্রে উদাহরণ টানা যায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের। তারাও আদালতের রায়ে দণ্ডিত ছিলেন, কিন্তু রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দণ্ড পুরস্কারের পরিণত হয়েছে।

প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ করতে চাই বিএনপির মাঝারি পর্যায়ের এক প্রবাসী নেতার। এমএ মালিক নাম। তিনি যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি। সম্প্রতি বিএনপি সংসদ নির্বাচনের যে মনোনয়ন ঘোষণা সেখানে এমএ মালিক পেয়েছেন সিলেট-৩ আসনের টিকেট। “নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেতে হলে অন্তত দুটি মামলা থাকতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালিক। গত ১৬ অক্টোবর মৌলভীবাজারে একটি চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পে বক্তব্য দিতে গিয়ে এমএ মালিক বলেন, গত ১৫ বছরে আপনার বিরুদ্ধে একটা মামলা হলো না, তাহলে আপনি কী ধরনের নেতা হলেন? [সূত্র: এনটিভি অনলাইন]” লক্ষণীয় বিষয় হলো আগে যারা মামলা না খেতে নানা চেষ্টা-তদবির করতেন, এখন দলের ত্যাগী নেতার তকমা ও বিভিন্ন পদ-পদবি এবং সুযোগ সুবিধা নিতে মামলা খুঁজছেন। 

এই মামলার বিষয় এখনো প্রাসঙ্গিক। জুলাইয়ের গণমামলায় অনেকের নাম যোগ হওয়ায় শুরুর দিকে অনেকেই হতাশ ও উৎকণ্ঠায় ছিলেন; তাদের অনেককে দেখছি এখন কার বিরুদ্ধে কয়টা মামলা আছে—এটা গর্বের সঙ্গে উচ্চারণ করতে। এটা কিন্তু মনস্তাত্ত্বিক এবং দৃশ্যমান একটা পরিবর্তন। আরও কিছু বিষয় লক্ষণীয় যে, আগে আওয়ামী লীগের অনেক নেতা গ্রেপ্তারের সময়ে ভেঙে পড়তেন, এখন সেই দলের নেতাদের কেউ কেউ ‘ভিক্টরি’ সাইন দেখাচ্ছেন, কেউ কেউ পুলিশ প্রহরায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগানও দিচ্ছেন। এখন তাদের স্লোগানের সঙ্গে সঙ্গে আরও অনেকেই সে স্লোগানে গলা মেলাচ্ছেন। এখানে কিছু লোকের মধ্যে ‘হিরো’ হওয়ার একটা প্রবণতা কাজ করছে। কারণ তারা জানে এইধরনের কিছু হলে অনলাইনে ব্যাপক সাড়া পড়ে এবং মুহূর্তেই ভাইরাল হওয়া যায়। এ সব কিছুর প্রভাব সামাজিক মাধ্যমে এবং প্রান্তিক পর্যায়ে পড়ছে, এবং এটা দ্রুততার সঙ্গেই। 

সবাই আন্দোলনে নামে না, সবাই স্লোগান ধরে না, সবাই স্লোগানে গলা মেলায় না—এর বাইরে থেকে যায় লাখো লোক। তারা কেবল প্রভাবিত হতে জানে। তারা এসবে প্রভাবিত হয়, এবং না দেখা অনেকের সঙ্গে এসব নিয়ে আলাপ জুড়ে থাকে। এভাবে এসব ছড়ায়। 

মনে করে দেখুন, যে লোকগুলো ‘খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্যে’ এতদিন একেবারে প্রত্যন্ত অঞ্চলে উতলা ছিল, তাদের ক’জনই বা দেখেছে সরাসরি খালেদা জিয়াকে, দেখার সুযোগ নাই জেনেও খালেদা জিয়ার জন্যে ভালোবাসা ঢালত অহর্নিশ। এখন যে লোকগুলো শেখ হাসিনার জন্যে জীবনের মায়া ত্যাগ করতে বসেছে, জেলজুলুম নিয়তি জেনেও নিত্য নামে পথে, তাদের ক’জন সরাসরি দেখেছে শেখ হাসিনাকে, ক’জনই বা ভবিষ্যতে দেখবে তাকে; কিন্তু দেখুন এক সাগর ভালোবাসা নিত্য ঢালছে তারা জন্যে। খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার জন্যে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের এই ভালোবাসা এমনি-এমনি আসেনি, এটা হয়েছে রাজনীতির লিগ্যাসির জন্যে; বিএনপি ও আওয়ামী লীগের জন্যে। আপনি-আমি তাদেরকে অস্বীকার-অগ্রাহ্য করলেও তাদের কিছু যায় আসে না। এখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনুস, তিনি তো নোবেলবিজয়ী ব্যক্তি; কিন্তু তার জন্যে একজন মানুষ পাবেন কোথায় নিজের জীবনের মায়া তুচ্ছজ্ঞান করতে? পাবেন না। কারণ তার অর্জন বলতে ওটুকুই, যা কেবলই ব্যক্তিগত। মানুষের জন্যে কিছু পাওয়া যায়নি বলে তার প্রতি আবেগ নেই তেমন দেশের মানুষের, পাশাপাশি নেই লিগ্যাসির কিছুও।

বলতে গেলে তো বলা যায় অনেক কিছুই। কিন্তু বাস্তবতা হলো ইতিহাসের চরম শিক্ষা হলো ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা নেয় না। কিংস পার্টি শেষ পর্যন্ত টেকে না। কিং চলে যাওয়ার পর কিংস পার্টিও হাওয়ায় মিলিয়ে যায়। তাদের কেউ কেউ খুচরাআধুলি দলের সঙ্গে মিশে, কেউ কেউ আবার হয়ে পড়ে ছাইভস্মও! তারা মূলত পরগাছা; টিকে থাকতে আওয়ামী লীগ কিংবা বিএনপির ছায়ায় নিতে হয় আশ্রয়!

লেখক: কবির য়াহমদ, সাংবাদিক ও অনলাইন একটিভিস্ট । 

সম্পাদক ও প্রকাশক: গোলাম রসুল খান

মোবাইল: +44 7440589342

তথ্য ও প্রযুক্তি সহযোগী - আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.