প্রথম আলো উত্তর আমেরিকা-আমার শক্তির উৎস

প্রকাশিত: ২৪ মার্চ, ২০২৩ ০৪:২১ (সোমবার)
প্রথম আলো উত্তর আমেরিকা-আমার শক্তির উৎস

palony"অগণিত লক্ষাধিক স্বর্ণের চেয়ে সংবাদপত্র মানুষের কাছে একটি বড় ধন।"- বলেছেন আমেরিকান কংগ্রেগ্যাশোনালিস্ট ধর্মযাজক, সমাজ সংস্কারক, হেনরি ওয়ার্ড বিচার।

তিনি হয়ত সংবাদপত্রের সার্বিক কার্যকরী দিকগুলো পর্যবেক্ষণ করেই এমন একটি ধারণায় উপনীত হয়েছিলেন।

নিজ ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় যদি বলি, বিশেষ করে প্রথম আলো উত্তর আমেরিকা সম্পর্কে, তবে বলতেই হয়, এই সংবাদপত্রটি আমার কাছে হীরার চেয়েও মূল্যবান ও দামী কিছু। আমার বিশ্বাসে নির্ভরযোগ্য একটি মাধ্যম, যেখানে আমি নিজেকে খুঁজে পাই ভিন্ন এক চরিত্রে।

সমাজ ও সাধারণ মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রয়োজনেই সংবাদপত্র আসে। বলা হয়, যে কোন কাজকে ভালোবাসতে পারলে, সেটা আরো অর্থবহ হয় এবং সমৃদ্ধির পথে পা বাড়ায়। সে অর্থে, নিউইয়র্কে প্রকাশিত সাপ্তাহিক সংবাদপত্র প্রথম আলো উত্তর আমেরিকা, নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে তার পাঠকদের মধ্যে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সংবাদ ও তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

দীর্ঘ ছয় বছর যাবত যুক্ত আছি পত্রিকাটির সাথে। শুরু হয় কলাম লেখার মাধ্যমে, তারপর সংবাদ পরিবেশন। একসময় হয়ে উঠি সাপ্তাহিক সাহিত্য সম্পাদক। এ নিয়েও কেউ কেউ দ্বিমত পোষণ করেন। লেখালেখির জগতে সময়ের স্বল্পতা এবং বয়সের অভিজ্ঞতার কমতিও ছিল এর কারণ। তবে নিষ্ঠার সাথে সাহিত্য সাধনার আলোকেই আমার ওপর ভরসা রেখেছিলেন পত্রিকাটির সম্পাদক ইব্রাহীম চৌধুরী। প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছিলাম, সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাব। আজও পর্যন্ত তা-ই করে যাচ্ছি। কতটা পেরেছি বা পারছি, তা "উত্তরের সাহিত্য" পাতার লেখক-পাঠকরাই বলতে পারবেন।

তবে এতটুকু বলতে পারি, প্রথম আলোতে নিয়মিত যুক্ত থাকার কারণেই আজ আমি নিজেকে ভিন্ন আলোকে দেখতে পাই। বলা যায়, আমার সকল শারীরিক বিপর্যয় ও লড়াই শেষে, প্রথম আলো আমার মনের ঘরে সলতে হাতে উপস্থিত হয়। আমাকে একটা দায়বোধে বেঁধে ফেলে, আমাকে সামনে পা বাড়াতে টোকা দেয়, যা অনেকটা শিশুর যত্নের মতো, উপেক্ষা করার প্রশ্ন থাকে না।

অনেকেই জানতে চান, চাকরি, পরিবার, নিজের স্বাস্থ্যজনিত সঙ্কট-সব সামলিয়ে আমি কি করে লেখালেখিতে এতটা সময় দিই! আমি বলি, ভালোবাসি তাই, ভালো থাকি তাই। কেউ কেউ বলেন, বিশ্রাম দরকার। তখনো আমি বলি, কলম আমাকে বিশ্রাম দেয়। আর সেই কলম চালাতে যে শক্তি ও উৎসাহ আমার পিছনে ছায়ার মতো থাকে, তা হলো-আমার লড়াই ও দৃঢ় মনোবল এবং প্রথম আলো উত্তর আমেরিকা, বিশেষ করে সম্মানীয় সম্পাদক ইব্রাহীম চৌধুরী। আমার মন কখনোই আমাকে সামনে বাড়তে নিরাশ করে না, বাধা দেয় না। আর আমি যখন সামনে বাড়ি, তখন প্রথম আলো আমাকে মুক্ত

ও উন্মুক্ত একটি পথ দেখায়, যেখানে আমি স্বাধীনতা ও শান্তি নিয়ে হাঁটতে পারি, ভাব প্রকাশ করতে পারি, নিজেকে সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করতে পারি।

প্রতিটা মানুষ একটা সুস্থ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে থাকতে চায়, যেখানে সে নিরাপদে কাজ করতে পারে। প্রথম আলো আমার সেই জায়গা, যেখানে আমি সম্মান ও নিরাপত্তার সাথে কাজ করতে পারি। এখানে আমার কোন ভুল ত্রুটি নেই, যা আছে তা প্রতিভার বিকাশ। আছে অনুপ্রেরণা ও শক্তির উৎস।

প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার যাত্রা শুরু হয় ২০১৬ সালে।

প্রথম আলো উত্তর আমেরিকা নিউইয়র্কে প্রকাশিত একটি বাংলাদেশি সংবাদপত্র। প্রথম আলো, বাংলা পাঠকদের মধ্যে সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের কাছে তার সংবাদ বিতরণ করে। সংবাদপত্রটি প্রতি শুক্রবার, মুদ্রিত হয় এবং বাংলাদেশি ব্যবসায়িক আউটলেট, মুদি দোকান, রেস্টুরেন্ট ইত্যাদির মাধ্যমে বিতরণ করা হয়। প্রথম আলো উত্তর আমেরিকা নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে তার পাঠকদের মধ্যে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি অব্যাহত রেখেছে। সংবাদপত্রটি ৪০ পৃষ্ঠার রঙিন এবং কালো/সাদা প্রিন্ট করে। এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের সংবাদ এবং ঘটনাগুলি কভার করে। বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের পাঠকরা তাদের নিবন্ধ, গল্প, কবিতা, অভিজ্ঞতা, মতামত, মন্তব্যসহ নানা বিষয়ে এখানে লিখতে পারেন।

ষষ্ঠ পার করে সপ্তম বর্ষে পদার্পণ করতে যাচ্ছে প্রথম আলো উত্তর আমেরিকা। আজ এই মহেন্দ্রক্ষণে প্রথম আলোকে জানাই প্রাণঢালা শুভেচ্ছা। 

সম্পাদক ও প্রকাশক: গোলাম রসুল খান

মোবাইল: +44 7440589342

তথ্য ও প্রযুক্তি সহযোগী - আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.