আলাপে সংলাপে সপ্তম বছরে প্রথম আলো

প্রকাশিত: ২৪ মার্চ, ২০২৩ ০৪:১১ (সোমবার)
আলাপে সংলাপে সপ্তম বছরে প্রথম আলো

palonyষষ্ঠ পেরিয়ে সপ্তম বছরে পদার্পণ করছে প্রথম আলো উত্তর আমেরিকা। কয়েক বছর আগে অনেক স্বপ্ন ও দায়িত্ব নিয়ে শুরু হয়েছিল এর যাত্রা। জয় করার নেশা ও অদম্য ইচ্ছা নিয়েই সামনে বাড়ছে প্রথম আলো, ভীত হয়ে পেছনে যেতে নয়। উত্তর আমেরিকায় 'প্রথম আলো' নতুন আঙ্গিকে নতুন দৃষ্টির স্লোগানে প্রবাসী বাঙালিদের আলোর পথ দেখায়।

পত্রিকাটির সম্পাদক ইব্রাহীম চৌধুরীর নিমগ্ন ভূমিকার কথা না বললেই নয়। তাঁর সবচেয়ে বড়দিক হলো লেখক, কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিকসহ যারা সাহিত্যচর্চা করছেন, হৃদয়ে বাংলাদেশকে ধারণ করে আছেন, তাদের একত্রীকরণ করা। প্রবাসে নানা গল্পের মাঝে গুণীজনদের নিয়ে আলাপ আলোচনা, আড্ডা, বাঙালি মহলে সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক ঘরানায়, লেখক ও সাংবাদিক মহলে আলোড়ন তুলে। ইতোমধ্যে এই সংবাদপত্রটি নিজস্ব রূপ পেতে শুরু করেছে। কর্মীরা কাজ শেষে মাঝেমাঝে প্রথম আলোর অফিসে জড়ো হোন ইব্রাহীম ভাইয়ের ডাকে। তার নেতৃত্বে প্রাণের টানে আড্ডা দেওয়ার ইচ্ছায়, ভালবাসায় কেনা

খাবার, রেস্টুরেন্ট অথবা নিজের বাসা থেকে তৈরি করে নিয়ে আসেন অনেকেই। তারপর জমজমাট আড্ডা শুরু হয়। অনেকেই কাজের অবসরে ঢু মেরে যান প্রথম আলো অফিসে। কাজপাগল সম্পাদক ইব্রাহীম ভাই হাসি মুখে সব সদস্যকে নিজস্ব এক পরিবার বলে মনে করেন। দেশ থেকে আগত সব অতিথিরা নিউইয়র্কে এসে প্রথম আলোয় অংশগ্ৰহণ করেন। আর এভাবেই দিন দিন বাড়ছে আড্ডার ব্যাপ্তি।

আমি দুই বছর হলো এদেশে এসেছি। লেখালেখির কাজ কিভাবে করব বেশ চিন্তায় ছিলাম। আমি তখন প্রথম আলোর সহকর্মীদের সহযোগিতায় লেখা দেয়া শুরু করলাম। প্রথম আলোর ৫ম বর্ষপূর্তিতে নিউইয়র্কে বসবাসরত সব লেখককে একত্রিত করলেন সম্পাদক। জমজমাট এক অনুষ্ঠান করা হয়েছিল।

ছয় বছর পেরিয়ে এবার সপ্তম বর্ষে পদার্পণ করবে প্রথম আলো। আমাদের মতো নাম না-জানা অনেক লেখককে উৎসাহিত করবার জন্য প্রথম আলোর কোনো জুড়ি নেই। অনেকের সাথে কথা বলে জানতে পারলাম, প্রথম আলো উত্তর আমেরিকা সংস্করণ সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে চলেছে। একটি পত্রিকা একটি জাতির পরিচয়কে ফোকাস করে। আমাদের সত্তাকে বিকশিত করে। প্রবাসী বাঙালিদের দেশের বাইরে থেকে দেশের জন্য মন উতলা হয়। এখানে যখন দেশের খবরসহ অন্যান্য ভালো খবর পান, তখন মনটা তাদের ভালো হয়ে যায়। আমাদের বাংলাদেশিরা যে পরিশ্রমী, সৃষ্টিশীল, তার খবরগুলো পেলে মন ভালো হয়ে যায়। দুঃখ ও মহামারির সময়ে ভয়ংকর পরিস্থিতির সময়ে বেশির ভাগ পত্রিকা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু প্রথম আলো পাঠকের কথা ভেবে ছাপা অব্যাহত রেখেছিল। আর প্রথম আলোকে সহযোগিতা করেছিলেন বিভিন্ন লেখক, পাঠক, বিজ্ঞাপনদাতারা।

একটা কথা অনেকে বলেন, এখানে একবার যে ঢুকে সে আর বের হতে পারে না। প্রথম আলোর প্লাটফর্মটাই এই রকম। সবাই মিলে যৌথভাবে প্রথম আলোর টিম হিসাবে কাজ করেন। গতানুগতিক পথের বাইরে কাজ করার ক্ষমতা রাখে সবাই। একটা কথা স্বীকার করতেই হয়, প্রথম আলো আলোকিত রৌদ্রের স্কুল।

এখানে আরেকটি বিষয় উল্লেখ্য করতেই হয়, নারীদের যুক্ত করা। প্রথম আলোর প্রতিটি কাজে নারী সাংবাদিক, লেখক, কবি সকলের প্রশংসনীয় ভূমিকা রয়েছে। এই ছাউনিতে আমরা একটা আস্থার ছাদ পাই। সাংবাদিক হতে কি করতে হবে, জানি না। কিন্তু প্রথম আলোর সহযোগিতার হাত অনেককেই প্রতিবেদন লেখার সাহস তৈরি করে। লেখালেখিতে অনুপ্রেরণা যোগাতে প্রথম আলো অসাধারণ ভূমিকা পালন করে। প্রথম

আলোর মূল স্লোগান “পাঠকেরাই আমাদের মূল শক্তি”-তে বাংলাদেশিদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। প্রথম আলোর পাঠক আরো হোক। প্রবাসীর ঘরে ঘরে পৌঁছে যাক 'প্রথম আলো'র আলো। প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার জন্য শুভ কামনা। 

সম্পাদক ও প্রকাশক: গোলাম রসুল খান

মোবাইল: +44 7440589342

তথ্য ও প্রযুক্তি সহযোগী - আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.