শুভ জন্মদিন প্রথম আলো উত্তর আমেরিকা
প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার ৭ম বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট সকলকে প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আমি এ পাতার নবীন একজন লেখক। সেই সুবাদেই আজকে এই ভালোবাসা, অভিনন্দন বা শুভেচ্ছা জ্ঞাপন। অবশ্য এই যে নবীন সদস্য হিসেবে নিজেকে পরিচিত করা এখানে আমার নিজের সেরকম কোন কৃতিত্বই নেই। একজন মানুষ যেচে এসে আমায় এই পরিচিতিটা দিলেন। তাই আজকে এই লেখায় ঘুরেফিরে সেই মানুষটাই চলে আসবেন, কেননা এই বিশেষ মানুষটাকে দিয়েই আমি এই কাগজটাকে অন্যরকম ভাবে চিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় প্রথম আলোয় কাজ করেছি সেই কারওয়ান বাজারের অফিসে। তারপর দীর্ঘ বিরতি। আমেরিকা আমার অনেক প্রাপ্তির সাথে অনেক হারানোরও ইতিহাস। সে দিকে গেলাম না। ব্যক্তিগত জীবনের চড়াই উতরাই জীবনবিমুখ রেখেছে অনেকগুলো বছর। ফলে আশপাশের দুনিয়ার খবর রাখিনি সচেতনভাবেই। গত
কয়েকবছর ধরে কবিতা লিখছি নিজের খেয়ালে, মনের আনন্দে। কোথাও প্রচার বা প্রকাশের তেমন আশা না করেই।
হাতের কাছেই এমন অবারিত একটা জায়গা এত সুন্দর একটা প্লাটফর্ম আছে, খুব ভালো জানতামই না। না, ঠিক জানতাম না বললে ভুল হবে— তার কাছে পৌঁছানোর রাস্তাটা জানা ছিল না। হঠাৎই ঐ সুযোগটা এলো।
এইচ বি রিতা আপা সে সুযোগটা করে দিলেন। গতবছরের মাঝামাঝি একদিন আমাকে একটা ক্ষুদেবার্তা পাঠালেন ইনবক্সে। মধ্য সেপ্টেম্বরে গ্রান্ডপেরেন্টস্ ডে তে ১২ লাইনের একটা ছোট্ট কবিতা প্রকাশিত হলো। শুরুতেই শুরু করার বাধাটা ঘুচল। তারপর থেকে উত্তরের সাহিত্য জগতে প্রবেশের একটা সিংহদ্বার যেন উন্মুক্ত হল আমার জন্য। কিছুদিন পর আবার কবিতা প্রকাশ হল একটা। আমি ই-মেইল করে বেশ কয়েকটা কবিতা পাঠিয়েছিলাম।
এক সন্ধ্যায় রিতা আপা ইনবক্সে ফোন করার অনুমতি চাইলেন। আমি হতবাক হলাম। নিজেই ফোন দিলাম। বললেন, তোমার লেখাগুলো আমি পড়েছি। এখানে তো একটার বেশি কবিতা এক সপ্তাহে দিতে পারিনি, পারছি না। তোমার আপত্তি না থাকলে অন্য পত্রিকায় পুরো এক পাতা কবিতা ছাপানোর ব্যবস্থা করব। সে জন্য তোমার অনুমতি দরকার। এ শহরে আমি যেখানে এরকম সুযোগের অপেক্ষায় তীর্থের কাকের মতো বসে আছি, সেখানে কেউ আমার অনুমতি চাইছে এমন করে, ভাবতেই আমার শ্রদ্ধায়, প্রেমে আজো মাথাটা অবনত হয়ে আসে।
যদিও কথা ছিল প্রথম আলো উত্তর আমেরিকা নিয়ে লেখার কিন্তু আমি একজন ব্যক্তিকে নিয়েই লিখলাম। আমি বিশ্বাস করি ভালো এবং কাজের প্রতি, মানুষের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ মানুষই ভালো প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে। আসলে একটা প্রতিষ্ঠান, একটা পত্রিকা কিংবা কিছু লেখা বা সাহিত্য সবটাই তো মানুষের জন্য এবং মানুষকে
নিয়ে। মানুষের মঙ্গল, মানুষের ভালোই তো সবকিছুর শেষ কথা। মানুষই সবকিছুর কেন্দ্রে। মানুষ না থাকলে আর বাকি সবকিছুই অর্থহীন।
উত্তরের সাহিত্য পাতায় আমি যতটুকু লিখেছি পড়েছি তার থেকে অনেক বেশি। নিয়মিত পড়ার চেষ্টা করি। প্রকাশিত হওয়ার দিনই ইচ্ছে করে পুরো পাতাটা পড়ে শেষ করি। কখনো ব্যস্ততায় সাথে সাথে পড়া না হলেও পরে সময় করে পড়ি। এখানে যারা লিখেন অনেকেই প্রবাসী। ফলে অনেকের গল্প, কবিতায় ফেলে আসা অতীত, আশি নব্বই দশকের বাংলাদেশ… বিশেষ করে গ্রামীণ জীবন ভীষণভাবে নাড়া দেয় আমাকে, নস্টালজিক করে তোলে।
পৃথিবী ছোট হয়েছে, দূরত্ব কমে গেছে। মানুষ মুহুর্তে পৃথিবীর এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তের খবর নিতে পারছে। মুখের দিকে তাকিয়ে কথা বলতে পারছে সামনা সামনি কথা বলার মতো। দেখতে পারছে সরাসরি কোথায় কি হচ্ছে, কেমন করে হচ্ছে। তবুও প্রবাস কিংবা প্রবাসের সাহিত্য যাকে ‘ডায়াসপোরা’ সাহিত্য বলা হয় তার ভেতরের অন্যরকম বেদনাবোধ মানুষের মনকে ছুঁয়ে যায়। আমার অন্তত সে রকমই মনে হয়। এ সব অনুভূতি কেবল অনুভবেই ধরা পড়ে আর সাহিত্য তাকে ধারণ করে রাখে কালের পরম্পরায়। সে সাহিত্যকে খুব কাছ থেকে অনুপ্রাণিত করে যে, হৃদয় দিয়ে লালন করে যে সেই পত্রিকা প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার উত্তরোত্তর সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করছি।
এমনি করেই যুগ-যুগান্তর পার করুক পত্রিকাটি, শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতি বিকাশে আরো জোরালো ভূমিকা রাখুক ‘প্রথম আলো উত্তর আমেরিকা।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.