আলোর সাথে প্রথম চলা

প্রকাশিত: ২৪ মার্চ, ২০২৩ ০৪:০৭ (সোমবার)
আলোর সাথে প্রথম চলা

palonyমনের গোপন কোনায় লেখালিখির ছোট্ট যে ইচ্ছাটা লুকিয়ে ছিল, সেটাই ঠিক প্রকাশ পেয়েছিল প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার পত্রিকায়। করোনাকালীন মহামারির আগে থেকেই প্রথম আলোয় টুকটাক গল্প লেখা শুরু করেছিলাম। তিনশ শব্দের অণুগল্পের পাতার সাথেও লেখালেখি ছিল। সেই সুবাদে ইব্রাহীম চৌধুরী, শেলী জামান খানের সাথে ইমেইলে যোগাযোগ হতো। কিন্তু কেউকে সামনাসামনি দেখিনি, আলাপ হয়নি।

এরইমধ্যে নিউইয়র্ক শহর শাটডাউন হলে ঘরের ভিতর দিনের পর দিন করার কিছুই ছিল না। তখন শুধু অলস সময়ে নিউজফিডে চোখ বুলানো, আর গল্প পড়া। মহামারি কেটে গেল, মানুষ আবারো গুটি-গুটি পায়ে ঘর থেকে বেরিয়ে পার্টি করার মতো সাহস দেখাল। একদিন সেই পার্টিতে দেখা হয়ে গেল ইব্রাহীম চৌধুরীর সাথে। আরো পরিচয় হল রওশন হক, মাহবুবুর রহমান, মনিজা রহমানের সাথে। বিশিষ্ট লেখক এন্তাজ রবি এলেন নিউইয়র্কে, একটা গোল জমায়েত হয়েছিল জ্যাকসন হাইটসের প্রথম আলোর অফিসে। এইচ বি রিতা, ফরিদা ইয়াসমীন, রোকেয়া দীপাকে চিনেছিলাম সেদিন। আমরা তখন প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার পঞ্চম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। সবার দেখাদেখি আমিও ইব্রাহীম চৌধুরীকে ভাইজান ডাকা শুরু করেছি। উনিই আমাকে অনুষ্ঠানের একটি অংশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়ে মাইক্রোফোন ধরা শেখালেন। তার আগে অডিয়েন্সের সামনে এভাবে দাঁড়িয়ে নিজের কিছু কথা বলার মতো সুযোগ কিংবা সাহস হয়নি। জনসমক্ষে কথা বলার আড়ষ্টতা একটু একটু করে দূর হয়ে যাচ্ছিল।

তারপর বছর গড়িয়েছে, উত্তরের সাহিত্য পাতায় এইচ বি রিতা নিজেকে ঢেলে সাজিয়েছে। সেখানে আমিও গল্প-কবিতা লিখেছি। লিখেছি বাবা দিবসে, পিতামহ দিবসে, ৯/১১ দিবসে। গতবছর মাঝামাঝি সময়ে আমি, ফরিদা ইয়াসমীন আর রোকেয়া দীপা মিলে “উত্তরের জনপদ” নামক পাতাটির কাজ শুরু করি। মাসে একবার এই পাতা বের হয়, যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের সত্য কাহিনী নিয়ে লেখা হয় দুটো গল্প। সেই গল্পে উঠে আসে

তাদের জীবনের সংগ্রাম, প্রাপ্তি, হতাশা-দুঃখ, হাসি-কান্না আর যত অভিমান। কখনো আমরা চরিত্রগুলোর নাম বদলে দেই, কিন্তু সত্যিকার গল্পগুলো পৌঁছে দেই সবার চোখের সামনে। চরিত্রগুলো নিজেদের জীবন কেমনভাবে বিশ্লেষণ করছে সেটা বিশদভাবে ব্যাখা করি এই “উত্তরের জনপদে”।

প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার আরেকটি নতুন সংযোজন হচ্ছে “টক অব দ্যা উইক”। সম্পাদক ইব্রাহীম চৌধুরীর নির্দেশনায় অনুষ্ঠানটি নিয়মিত পরিচালনা করে যাচ্ছেন এইচ বি রিতা। প্রতি বৃহস্পতিবার রাত নয়টার এই টক শো এক ঘণ্টার জন্যে সম্প্রচারিত হয়। এই পরিবারের সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অনুষ্ঠানটি জয় করে চলেছে দর্শকদের মন। অনুষ্ঠানে আসা অতিথিরা যোগদান করেন উত্তর আমেরিকার নানান জায়গা থেকে। অতিথিরা কখনো বীর মুক্তিযোদ্ধা, লেখক-লেখিকা, নারী উদ্যোক্তা, আইনজীবী, রিয়েল এস্টেট এজেন্ট, সাইক্রিয়াটিস্ট, শিক্ষক, নতুন প্রজন্মের এগিয়ে চলা সন্তানেরা। অনেকের সাথে আমিও একজন সঞ্চালক, নির্ধারিত প্রশ্নের সাথে পাঠকদের রাখা প্রশ্নও করা হয়। অনুষ্ঠানে সম্মানিত মুক্তিযোদ্ধারা আসেন, নিজমুখে নিজেদের সেই উত্তাল দিনগুলোর কাহিনী শোনান। আমরা প্রতি সময়েই নতুন নতুন কিছু জানতে পারি, মুক্তিযুদ্ধের উপরে উনাদের লেখা বইগুলোর খবর পাই। এভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের মুখে সংগ্রামের কাহিনী শোনার সুযোগ পাওয়া একটা সৌভাগ্যের ব্যাপার বলে আমি মনে করি। কখনো আসেন মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান, বাবা হারানোর কথা বলেন, বলেন মায়েদের জীবন সংগ্রামের কথা। ৯/১১’র সেই দুঃস্বপ্নের দিনটির কথা বলেন একজন প্রত্যক্ষদর্শী, সেকথা শুনে দর্শককুল চোখের পানিতে ভাসেন। বাড়ি কেনা-বেচার নিয়ম, অভিবাসনের নিয়ম-কানুন, বাংলা শেখার স্কুল, নাচ-গানের স্কুল, মানসিক স্বাস্থ্য, সাহিত্য-গল্প-কবিতা কিছুই বাদ পড়ে না এই সরাসরি সম্প্রচার থেকে।

আর এভাবেই অনেকগুলো মাস পেরিয়ে গেছে প্রথম আলো পরিবারের সাথে। প্রতিনিয়ত আমরা ভুল করেছি, ভুল থেকে শিখেছি, আবারো সফল হয়েছি, কিন্তু

ভাইজান আমাদেরকে একটা কথা বলেন শুধু, We are all good! এই একটা প্রতিষ্ঠান যেখানে কাজ করার স্বাধীনতা আছে, নিজের ক্রিয়েটিভিটি প্রদর্শনের সুযোগ আছে। কিছু গড়মিল-মনমালিন্য হালকা ছাপ রেখে গেলেও প্রথম আলো পরিবারের ওপর দাগ চড়াতে পারে না। উপরন্তু গোল হয়ে আড্ডা দেয়া, সারি বেঁধে ছবি তোলা, দাওয়াত খাওয়া, তুষার ভাইয়ের ক্যামেরায় তোলা বিখ্যাত ছবির জন্যে অপেক্ষায় থাকা-"প্রথম আলো” পরিবার ছাড়া আর মিলবে কোথায়? 

সম্পাদক ও প্রকাশক: গোলাম রসুল খান

মোবাইল: +44 7440589342

তথ্য ও প্রযুক্তি সহযোগী - আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.