ভদ্রতা
হাই স্যার, সরি, থ্যাঙ্ক ইউ, মাই ফলট, এসকিউজ মি, এই শব্দ গুলো বিদেশিদের মুখে আঠার মতো লেগে থাকে। তারা যদি একজন লোকের সামনে দিয়ে যায় তাও ভদ্রতার খাতিরে বলে সরি অথবা এসকিউজ মি। কেউ যদি একটু যাওয়ার সুযোগ করে দেয় কত বার যে ধন্যবাদ জানায়। কাউকে যদি ট্রেনে বা বাসে বসার একটা সিট করে দেয় অন্তরের অন্তঃ স্থল থেকে কতবার যে ধন্যবাদ জানায়। কারো কোন কিছু যদি মাটিতে পড়ে যায় আর কেউ যদি দয়া করে তুলে দেয় তাকে কত বার যে ধন্যবাদ জানায়।কেউ যদি কাউকে জিজ্ঞাসা করে সে একটা জায়গায় যাবে কিন্ত জানে না কিভাবে যাবে যদি দয়া করে বলে দেয় কতবার যে ধন্যবাদ জানায়। দোকানে একটা জিনিস কিনতে গেলে দোকান দার কে হাই বা হ্যালো বলে জিজ্ঞাসা করে তাদের ঐখানে ঐ জিনিসটা আছে কিনা যে জিনিসটা সে খুঁজছে। দোকানদার ও ভদ্রতার সহিত হ্যালো বা হাই বলে এবং প্রায়ই বলে হাউ কেন আই হেল্প ইউ অথবা ডু ইউ নিড এনি হেল্প ।
দোকান দার যদি বলে জিনিসটা আছে কাস্টমার কি যে খুশি হয়। বলে পারফেক্ট, থ্যাঙ্ক ইউ, থ্যাঙ্ক ইউ ভেরি মাস। কাস্টমারের মুখে হাসিই থাকে অন্য রকম। এমন কি জিনিসটা পে করে যাওয়ার সময় থ্যাঙ্ক ইউ বলে চলে যায়। হাই ,থ্যাঙ্ক ইউ আর সরি শব্দগুলো বিদেশিরা ব্যবহার করে বেশি। বিশ্বাস করুন আর নাই করুন বাইরের দেশে মালিক ও শ্রমিক কে স্যার বলে সম্বোধন করে। ইংরেজিতে বলে ভদ্রতা কিনতে পয়সা লাগে না কিন্ত এর দ্বারা অনেক কিছু অজন করা যায়। বিদেশে একজন গাড়ির ড্রাইভার কে ও কাস্টমারেরা স্যার বলে সম্বোধন করে। নাফিতের দোকানে চুল কাটাতে গেলে ও কাস্টমারেরা স্যার না বলে কথা বলে না। বেশি পরিচিত হলে মাই ফ্রেন্ড বলে।
বিদেশের জীবনে সবক্ষেএে ভদ্রতা সহিত চলতে হয়। বিদেশে কে ধনী কে গরীব, কে মালিক কে শ্রমিক, কে ছোট কে বড় সেটা বড় কথা নয় বড় কথা হচ্ছে ভদ্রতা বজায় রেখে চলতে হবে। কেউ যদি ভুল করে এবং ভদ্রতার সহিত বলে সে ভুল করছে । ভুল করার জন্য ক্ষমা প্রার্থী তাহলে অনেক সময় মাফ ও পেয়ে যায়।বিদেশিরা দেখি গুঁড় মরনিং, গুঁড় ইভিনিং, গুঁড় আফটার নুন এবং গুঁড় নাইট ভদ্রতার সহিত বলে।
বিদেশে দেখি কেউ কাউকে ছোট করে দেখে না। একজন ভিক্ষুকের সাথে ও স্যার বলে কথা বলে। যদি একটা জিনিস না দিতে পারে বা সাহায্য করতে না পারে তাও ভদ্রতার সহিত বলে। যার বাংলা মানে দাঁড়াত আপনি কিছু মনে করবেন না, অথবা আমাকে মাফ করবেন আমার ব্যাপারটা জানা নাই। অনেক সময় বিদেশিরা অন্যের কাজ থেকে জেনেও আর একজন কে সাহায্য করে। তারা জীবনের প্রতিটা ক্ষেএে ভদ্রতা বজায় রেখে চলে। যে ভদ্র আচরণ করে বিদেশিরা তাকে গুঁড গাই বলে।কেউ যদি একটা অন্যায় করে সেই অন্যায়কারীর সাথে কথা বলতে গিয়ে প্রথমে যে শব্দটি ব্যবহার করে তা হলো স্যার।
বিদেশে সব কাজ কেই মুল্যায়ন করা হয়। কাউকে কে ছোট করে দেখার কোন অবকাশ নাই। এখানে কে কোথায় থেকে এসেছে এটা বড় কথা নয়। বড় কথা হলো ভদ্রতা বজায় রেখে চলতে হবে। একে অপরকে অবশ্যই সমমান প্রদর্শন করতে হবে।
আমরা ভদ্রতা থেকে দিন দিন একটু দূরে সরে যাচ্ছি। আমরা যদি অপরের কে সমমান না করি তাহলে অপরেরা ও আমাদের সমমান করবে না। আমাদের কাছ থেকে আমাদের বাচ্চারা ভদ্রতা, শিষটাচার ও আদব কায়দা শিক্ষে। আমরা অপর কে সালাম দিলে আমাদের বাচ্চারা ও অপরের সালাম দেয়। এক কথায় আমরা যেটা করি সেটাই তারা অনুকরন ও অনুসরন করে। একটা দেশ ও জাতির উন্নতির ক্ষেএে ভদ্রতা একটা গুরুত্বপুন অবদান। আমরা বিশ্বে বিভিন্ন ভদ্রজাতির কথা শুনি। ভদ্রতা বা ব্যবহারেরই ফুঁটে উঠে বংশের পরিচয়।
ভাল ব্যবহারে শত্রু পর্যন্ত ও খুশি হয়। ভাল ব্যবহার করেও খারাপ মানুষ কে ভাল করা যায়। কিভাবে ভাল ব্যবহার করতে হয় তা শিক্ষতে হয়। আমাদের একটা স্যার ক্লাসে বলতেন তোমরা আগে ভাল ব্যবহার শেখ এবং জান কোন পরিবেশে কিভাবে চলতে হয়?
বিদেশে বৃদ্ধ লোকদের ভদ্রতার সহিত বা সমমানের সহিত সিনিয়র সিটিজেন বলে। আসলে ভাল ব্যবহারের ফলাফল সব সময় ভালই হয়। ভাল ব্যবহারের জন্য আমাদের প্রিয় নবী কে শত্রুরা পর্যন্ত আল আমিন বলে ডাকতেন।
আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে এক শিক্ষক ছিলেন স্যার ছাত্রদের সাথে আপনি না ছাড়া কথা বলতেন না। স্যার কে একদিন ক্লাসে বলা হল স্যার আপনি কেন আমাদের আপনি বলেন। স্যার বলেন আপনারা ইউনিভার্সিটি পড়েন । আপনারা আমাদের দেশের গৌরব। আপনারা সোনার বাংলাদেশ কে আরো সুন্দর করবেন আপনাদের প্রতি এ বিশ্বাস আমাদের আছে। কত ভদ্রভাবে যে স্যার আমাদের সাথে কথা বলতেন।
আমরা সবাই কে সমমান প্রদর্শন করব। আমরা কাজে বিশ্বাসী।
আমরা বিশেষ করে আমাদের বাচ্চাদের ছোটবেলা থেকে ভদ্রতা ও নৈতিকতা শিক্ষা দিব। সবার আগে আমরা একে অপর কে ভালবাসব ।সবাই আল্লাহর সৃষ্টি। কাউকে ছোট করে দেখার কোন অবকাশ নাই। বিদেশিদের মত আমরা প্রত্যেক সেক্টরের লোক কে মুল্যায়ন করব। আমরাও একদিন বিশ্বে সভ্য জাতি হিসাবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াব।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.