পেঁয়াজের শুভ্র ফুল কাড়ছে নজর

প্রকাশিত: ১১ মার্চ, ২০২৩ ০৩:২৪ (সোমবার)
পেঁয়াজের শুভ্র ফুল কাড়ছে নজর

চাটমোহরের কাটেঙ্গা মাঠ কন্দ থেকে বীজ উৎপাদন করছেন পেঁয়াজ চাষিরা। ছবি : সংগৃহীত মসলা জাতীয় ফসল পেঁয়াজ। নিত্য প্রয়োজনীয় এ পণ্য প্রায় প্রতিটি রান্নায় অপরিহার্য। বিশ্বের প্রায় সব দেশেই পেঁয়াজের ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। সালাদ হিসেবেও কাঁচা পেঁয়াজের কদর রয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতোই বাংলাদেশেও উৎপাদন হয় স্বাস্থ্যগুন সম্পন্ন মসলা জাতীয় এ উদ্ভিদ।

চলতি মৌসুমে পাবনার চাটমোহর উপজেলায় প্রায় ১৫ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যে কৃষক জমি থেকে কন্দ পেঁয়াজ উত্তোলন করেছেন। চারা পেঁয়াজ রোপণের কাজও শেষ করেছেন তারা। বীজ উৎপাদনের জন্য যে সকল কৃষক কন্দ লাগিয়েছিলেন তাদের ক্ষেতগুলো ভরে গেছে শ্বেত শুভ্র ফুলে। পেঁয়াজ ক্ষেতের শুভ্র ফুল এখন নজর কাড়ছে মানুষের। আগামী কিছু দিনের মধ্যে পেঁয়াজ ফুল থেকে বীজ সংগ্রহের কাজ শুরু করবেন এ এলাকার কৃষক।   চাটমোহর কৃষি অফিস সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে চাটমোহরে মোট ১ হাজার ২১১ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ৫শ ৯০ হেক্টর চারা পেঁয়াজ, ৬শ ২০ হেক্টর কন্দ পেঁয়াজ এবং ১ হেক্টর জমিতে বীজ উৎপাদনের জন্য পেঁয়াজের চাষ হয়েছে। ইতিমধ্যে কন্দ পেঁয়াজ জমি থেকে উত্তোলন করেছেন কৃষক। সম্প্রতি চারা পেয়াজ রোপনের কাজও শেষ হয়েছে। আবহাওয়া পেঁয়াজ চাষের অনুকূলে থাকায় হেক্টরপ্রতি প্রায় ১৪ মেট্রিক টন ফলন পাওয়া গেছে। হেক্টর প্রতি চারা পেঁয়াজের গড় ফলন পাওয়া যায় প্রায় ১১ মেট্রিক টন। সে হিসেবে কন্দ ও চারা পেঁয়াজ মিলে চাটমোহরে প্রায় ১৫ হাজার টন পেঁয়াজ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।   উপজেলার কাটেঙ্গা গ্রামের কৃষক হায়দার আলী ইতিমধ্যে পেঁয়াজ ও পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনে সফলতা দেখিয়েছেন। গত উনিশ বছর যাবৎ পেঁয়াজ চাষ করে আসছেন তিনি। করছেন বীজ উৎপাদনও। এ বছর কন্দ পেয়াজে প্রায় ৪০ মণ হারে ফলন পেয়েছেন তিনি। তিনি দেড় বিঘা জমিতে পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন করছেন। হায়দার আলী জানান, কন্দ থেকে বীজ উৎপাদনে জমি চাষ, কন্দ, সার, বালাই নাশক, সেঁচ, শ্রমিক খরচ সব মিলিয়ে প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়। প্রাকৃতিক দূর্যোগ না ঘটলে বিঘাপ্রতি প্রায় একশ কেজি পেঁয়াজ বীজ পাওয়া যায়। স্বাভাবিক সময়ে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বীজের দাম থাকে দুই হাজার টাকার কিছু কম বেশি। তবে কোন কোন বছর প্রতি কেজি পেঁয়াজ বীজের দাম ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে যায়। তখন বেশি লাভ হয় তাদের।   চাটমোহর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ.এ মাসুম বিল্লাহ জানান, আমরা পেঁয়াজ চাষ সম্প্রসারণে কাজ করছি। অনেক চাষী সরকারি সহায়তা পাচ্ছেন। চাটমোহরে সাধারণত তাহেরপুরী এবং কলস নগর জাতের পেয়াজ চাষ হয়ে থাকে। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কন্দ পেঁয়াজ চাষীরা ভাল ফলন পেয়েছেন। চারা পেঁয়াজ রোপন শেষ হয়েছে। বীজ উৎপাদনকারী চাষীরা কিছু দিনের মধ্যে পেঁয়াজ বীজ সংগ্রহ শুরু করবেন। ভাল দাম পাওয়ায় লাভবান হচ্ছেন কৃষক।

সম্পাদক ও প্রকাশক: গোলাম রসুল খান

মোবাইল: +44 7440589342

তথ্য ও প্রযুক্তি সহযোগী - আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.