আত্মঘাতী ড্রোনগুলো কোথা থেকে পেল রাশিয়া?
শাহেদ নামের ড্রোন, যেগুলোকে আত্মঘাতী বা কামিকাজে ড্রোন নামেও অভিহিত করা হয় সেগুলোর দ্বারা রাশিয়া হামলা চালিয়েছে ইউক্রেনে। রাজধানী কিয়েভসহ ইউক্রেনের শহরগুলোতে রাশিয়ার হামলায় ১৭ অক্টোবর সোমবার অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন।
যদিও এই ড্রোন হামলার কারণে অব্যাহত ইউক্রেন যুদ্ধের গতি প্রকৃতিতে কোনো পরিবর্তন আসছে না, তবে বিশেষ ওই ড্রোনগুলোর ব্যবহার এবং রাশিয়া কোথা থেকে সেগুলি নিয়ে এসেছে, তা আজ আন্তর্জাতিক আগ্রহের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কি এই 'সুইসাইড ড্রোন'? গতানুগতিক ড্রোনগুলো রিমোট-নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে। ওগুলো গোলাবারুদের লোড ফেলে দিয়ে ওড়ে যেতে পারে। কিন্তু এই শাহেদ ড্রোনগুলো সময়ের আগে স্থানাঙ্কের সাথে প্রোগ্রাম করা হয় এবং তাদের লক্ষ্যগুলোকে আঘাত করার জন্য জিপিওস’র ওপর নির্ভর করতে হয়।
ফারজিন নাদিমি ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউটের একজন সহযোগী ফেলো। তিনি ইরানের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা বিষয়ে বিশেষজ্ঞ। নাদিমি বলেন, এই ড্রোনগুলো ‘মোটামুটি নির্ভুল’, শালীনভাবে সিগন্যাল জ্যামিং প্রতিরোধ করতে পারে এগুলো। এদেরকে রাডার ব্যবহার করে শনাক্ত করা এবং ট্র্যাক করা কঠিন। তবে এই দুর্বলতাও কম নয়। নাদিমি বলেন, ‘আমি মনে করি এই ড্রোনগুলির সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দিক হল এটি খুব উচ্চ শব্দ করে।’
অবসরপ্রাপ্ত মেরিন কর্নেল মার্ক ক্যানসিয়ানের মতে, শাহেদ ড্রোনগুলোর আরেকটি অসুবিধা হলো তাদের গতি। ‘এগুলোর সমস্যা হলো, এগুলো ধীর গতি সম্পন্ন।’ ক্যানসিয়ান বলেন, ‘এ ড্রোনগুলো প্রপেলার-চালিত এবং আমরা জানি, সমস্ত প্রপেলারচালিত ড্রোন স্লো হয়ে থাকে। এগুলো খুব দ্রুত ওড়তে পারে না। তাই ক্ষেপণাস্ত্র বা বিমানবিধ্বংসী বন্দুক দ্বারাগুলো করে এদের ভূপতিত হওয়ার ক্ষেত্রে সংবেদনশীল।’
মি. ক্যানসিয়ান এখন সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের সিনিয়র উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন।
রাশিয়া এই ড্রোনগুলো পেল কোথায়? এমন প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হচ্ছে। মার্কিন কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, এই হামলায় ব্যবহৃত ড্রোনগুলো ইরানি। তবে ইরান এ যুদ্ধে রাশিয়ার সাথে তার জড়িত
থাকার বিষয়টি বরাবরই অস্বীকার করে আসছে। তবে নাদিমি বলেন, ‘রাশিয়া ইরানের কাছ থেকে অস্ত্র নেয়া বা কেনার কারণ রয়েছে। একটি কারণ তো এই যে, তারা তাদের নিজস্ব ক্রুজ এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের স্টক এ যুদ্ধে খুব দ্রুত ব্যবহার করছে ফেলছে। এত দ্রুত তারা সেই স্টকগুলো পুনরায় পূরণ করতে সক্ষম নয়।’ তাই (তারা) অনেক সস্তা ইরানী বিকল্পের আশ্রয় নিয়েছে।
ইরান সরকার অবশ্য ইউক্রেনে ব্যবহৃত ড্রোন রাশিয়াকে সরবরাহ করার বিষয়টি স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় টুইটারে বলেছে, "ইরান বারবার ঘোষণা করেছে যে তারা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে কোনো পক্ষের পাশে নেই। ইরান যুদ্ধরত কোনো পক্ষকেই অস্ত্র দেয়নি।’ ইরানের পক্ষ থেকে অস্বীকার করা সত্ত্বেও ইউক্রেন সরকার অনুমান করছে, রাশিয়া দুই হাজার চারশ এমন ড্রোন অর্ডার দিয়ে আনিয়েছে।
ইউক্রেন কি এই হামলা সহ্য করতে পারবে? এমন প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হচ্ছে যুদ্ধ বিশ্লেষকদের পক্ষ থেকে।
রাশিয়া ফ্রন্টলাইন যুদ্ধে ইউক্রেনের সাথে হেরে যাচ্ছে বলে মরিয়া হয়ে উঠেছে। নাদিমি এবং ক্যানসিয়ান উভয়ই ইউক্রেনের শহরগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে আজকের ড্রোন হামলার রাশিয়ান সিদ্ধান্তকে তুলনা করেছেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে লন্ডনকে লক্ষ্য করে
জার্মান যে “দ্য ব্লিটজ” বোমা হামলা অভিযান চালিয়েছিল তার সাথে।
"এটা মনে হচ্ছে যে রাশিয়ানরা তাদের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করার উপায় ব্যবহার করছে, এটি সম্ভবত ইউক্রেনের জনসংখ্যাকে ভয় দেখানোর উদ্দেশ্য নিয়ে বড় শহরগুলোতে আঘাত করা... কিন্তু আমি মনে করি সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটি একটি ভুল।” ক্যানসিয়ান বলেন, "ইউক্রেনীয়দের ভাঙ্গার সম্ভাবনা খুবই কম। মনোবল ভাঙার সম্ভাবনা খুবই কম।"
ক্যানসিয়ান বলেন, শহরগুলোতে ফোকাস করার মাধ্যমে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী সম্ভবত ফ্রন্টলাইনে পুনরায় সংগঠিত হওয়ার জন্য আরও বেশি সময় পাবে। যেমনটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ব্রিটেনের বেলায় হয়েছিল। নাদিমি বলেন, তখন ব্রিটেন যেমন তার রাজধানীর হুমকি কাটিয়ে উঠেছিল, তিনি বিশ্বাস করেন ইউক্রেনও এক্ষেত্রে তা করতে সক্ষম হবে।
এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, তারা ইউক্রেনে তাদের নাসামস্ সিষ্টেম সরবরাহের গতি বাড়াচ্ছে। নাসামস্ একটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যা ওয়াশিংটন ডিসিতে হোয়াইট হাউসকে প্রতিরক্ষা দিতে ব্যবহৃত হয়। এই সিস্টেমগুলো আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্য ইউক্রেনে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.